অসহযোগ আন্দোলনের ব্যর্থতার কারণ | Non-Cooperation Movement

অসহযোগ আন্দোলনের ব্যর্থতার কারণ


ভূমিকা:

১৯২০ সালে গান্ধীজির নেতৃত্বে অসহযোগ শুরু হয়। জাতীয় কংগ্রেস অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে এই প্রথম সরাসরি ব্রিটিশ-বিরোধীতায় অংশগ্রহণ করেছিল। তবে অসহযোগ আন্দোলন শেষপর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছিল। এই আন্দোলনের ব্যর্থতার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কারণ হল—


১. একক নেতৃত্ব: 

গান্ধিজির একার ওপর অসহযোগ আন্দোলনের ভাগ্য নির্ভরশীল ছিল। গান্ধিজির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করেই এই আন্দোলনের সূচনা ও সমাপ্তি ঘটেছিল। চৌরিচৌরার হিংসাত্মক ঘটনায় ক্ষুব্ধ গান্ধিজি এই অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আন্দোলন ব্যর্থ হয়।


২. ব্রিটিশের দমন নীতির তীব্রতা: 

ব্রিটিশের তীব্র দমন নীতি অসহযোগ আন্দোলনকে শেষপর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত করে। লাঠি চালিয়ে, বিভিন্ন আইন প্রয়োগ করে, এমনকি গুলি চালিয়েও ব্রিটিশ এই আন্দোলনের অবসান ঘটাতে তৎপর ছিল।


৩. খিলাফতের সঙ্গে সংযুক্তি: 

খিলাফতের সঙ্গে অসহযোগের সংযুক্তি এক চরম ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। কামাল পাশা তুরস্কে ক্ষমতা লাভ করে খলিফা পদ তুলে দিলে ভারতে খিলাফত আন্দোলন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ভারতীয় মুসলমানরা অসহযোগ আন্দোলন থেকে দূরে সরে যায় এবং অসহযোগ আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।



৪. আন্দোলনকারীদের স্বার্থগত ভিন্নতা : 

অসহযোগ আন্দোলনে যোগদানকারীদের আলাদা-আলাদা স্বার্থ ছিল। কৃষকরা চেয়েছিল জমিদার ও মহাজনদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলির সুরাহা করতে। শ্রমিকরা চেয়েছিল মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থানকে মজবুত করতে। বণিকশ্রেণি চেয়েছিল আরও বেশি করে মুনাফা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে। আন্দোলনকারীদের এই আলাদা-আলাদা স্বার্থ আন্দোলনকে ব্যর্থ করে দেয়।


চৌরিচৌরা ঘটনা: 

জেলার চৌরিচৌরা নামক গ্রামে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে একদল স্বেচ্ছাসেবক ধরনায় বসে (১৯২২ খ্রিস্টাব্দে)। স্বেচ্ছাসেবীদের নেতা ভগবান আহীরকে পুলিশ শাস্তি দিলে ৩ হাজার কৃষকের এক মিছিল থানা ঘেরাও করে। এদের ওপর পুলিশ গুলি চালালে উত্তেজিত জনতা থানায় আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে ২২ জন পুলিকর্মী মারা যায়। এই ঘটনায় গান্ধিজি অত্যন্ত মর্মাহত হন এবং অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন।


তথ্য সূত্র:

ইতিহাস শিক্ষক- অষ্টম শ্রেণী | জে মুখোপাধ্যায়।

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

World News

نموذج الاتصال

close