মনসবদারি প্রথা সম্পর্কে টীকা লেখো | Short Note On Mansabdari System


টীকা: মনসবদারি প্রথা | মনসবদারি ব্যবস্থা বলতে কী বোঝ

ভূমিকা:

ভারতে মোগল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার আগে থেকেই মনসবদারি ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। তবে মোগল যুগে আকবরই প্রথম অভিজাত শ্রেণির ক্ষমতা বৃদ্ধি রুখতে মনসবদারি প্রথাকে নতুন রূপে প্রয়োগ করেন। এই ব্যবস্থাই মোগল সাম্রাজ্যকে দীর্ঘস্থায়ী করেছিল।


১. অর্থ: মনসব কথাটির অর্থ হল পদমর্যাদা। এই পদমর্যাদার অধিকারী কর্মচারীর নাম ছিল মনসবদার। প্রতিটি মনসবদার যে প্রথা মেনে নির্দিষ্ট পরিমাণে সেনা ও ঘোড়া মোতায়েন রাখতেন এবং পদমর্যাদা অনুযায়ী বেতন পেতেন, সেই প্রথাকে বলা হত মনসবদারি প্রথা।


২. পদমর্যাদা: সম্রাটের ইচ্ছার ওপরই মনসবদারদের পদমর্যাদা নির্ভরশীল ছিল। কোনো মনসবদার তার পদমর্যাদা অনুযায়ী কাজ করতে পারলে তার পদোন্নতি হত আর না পারলে তার পদাবনতি ঘটত। এই পদ বংশানুক্রমিক ছিল না। মনসবদারের মৃত্যু ঘটলে তার সকল সম্পত্তি সম্রাট বাজেয়াপ্ত করতেন।


৩. বেতন: মনসবদারদের মধ্যে এক হাজারি মনসবদারের মাসিক বেতন ছিল চার হাজার চারশ টাকা। পাঁচ হাজারি মনসবদারের মাসিক বেতন ছিল ত্রিশ হাজার টাকা।


৪. বিভিন্ন স্তর: মনসবদারি প্রথা আকবরের আমলে তেত্রিশটি স্তরে বিভক্ত ছিল। যুদ্ধের সময় বিভিন্ন স্তরের এই মনসবদাররা সম্রাটকে সেনা পাঠাতে বাধ্য ছিল। মনসবদারদের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল দশ হাজারি, আট হাজারি ও সাত হাজারি মনসবদার।


৫. বৈশিষ্ট্য: ১. প্রতিটি মনসবদার নির্দিষ্ট সংখ্যক সেনা রাখত এবং প্রয়োজনে সম্রাটকে সৈন্যের জোগান দিত। ২. যোগ্যতা অনুযায়ী মনসবদার নিযুক্ত হতেন। ৩. মনসবদারদের নিয়োগ, পদোন্নতি, বরখাস্ত সবই সম্রাটের ইচ্ছাধীন ছিল। ৪. এই পদ বংশানুক্রমিক ছিল না। ৫. মনসবদারের মৃত্যু হলে তাঁর সমস্ত সম্পত্তি সম্রাট বাজেয়াপ্ত করতেন।


তথ্য সূত্র:

ইতিহাস শিক্ষক- অষ্টম শ্রেণী | জে. মুখোপাধ্যায়।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close