আকবরের দীন-ই-ইলাহী সম্পর্কে একটি টীকা লেখো | Short Note On Din-i Ilahi


  টীকা: দীন-ই-ইলাহী।

ভূমিকা:

ধর্মীয় দিক থেকে মোগলযুগের সর্বাপেক্ষা উদার শাসক ছিলেন আকবর। ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে আকবর ‘দীন-ই-ইলাহী' নামে এক একেশ্বরবাদী ধর্মমতের প্রবর্তন করেন।


১. মূলকথা: সকল ধর্মের সার বস্তু নিয়ে আকবর ‘দীন-ই-ইলাহী’ নামে ধর্মমত গঠন করেন। এই ধর্মমতের মূলকথা ছিল সকল ধর্মের মানুষকে ধর্মীয় স্বাধীনতা দান।


২. ভিত্তি: আকবর প্রবর্তিত ‘দীন-ই-ইলাহী’ কোনো লিখিত ধর্মগ্রন্থের রূপায়ণ ছিল না। এই ধর্মমতের মূলভিত্তি ছিল কোরান, হিন্দুধর্মের বিভিন্ন পুস্তক ও জিশুর বাণী। এ ছাড়াও উপনিষদের একেশ্বরবাদ, হিন্দু দর্শনের জন্মান্তরবাদ এবং বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের অহিংস নীতির ওপর ভিত্তি করে আকবর এই ধর্মমতের উদ্ভাবন করেন।


৩. পালনীয় কৰ্তব্য: ‘দীন-ই-ইলাহী’ ধর্মমতের অনুগামীদের কিছু কর্তব্য পালন করতে হত। যেমন- ১. সম্রাটের স্বার্থে সম্পত্তি, জীবন, সম্মান এবং ধর্ম বিসর্জনের প্রতিশ্রুতি পালন। ২. আমিষ ভোজন না করা, মদ্যপান থেকে বিরত থাকা, নিকট আত্মীয়কে বিবাহ না করা, জুয়া না খেলা, শিকার না করা ইত্যাদি। ৩. জন্মমাসে দান করা, দরিদ্রের সেবা করা, একই ধর্মানুগামীর পরস্পরকে ভোজে আমন্ত্রণ করা ইত্যাদি।


৪. গুরুত্ব: ‘দীন-ই-ইলাহী’ কোনো নতুন ধর্মমত ছিল না। ধর্মীয় প্রলেপের আড়ালে এটি ছিল মূলত একটি রাজনৈতিক দলিল। তবুও এর গুরুত্বকে অস্বীকার করা চলে না। ১. সব ধর্মের সার নিয়ে গড়ে ওঠা এই ধর্মমতকে জাতীয় ধর্মরূপে প্রচার করায় আকবর জাতীয় নেতায় পরিণত হয়েছিলেন। ২. এই ধর্মমতের সুবাদে বিভিন্ন ধর্মের অনুগামীরা কাছাকাছি আসার সুযোগ পেয়েছিল, ফলে ভারতে এক জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল।


তথ্য সূত্র:

ইতিহাস শিক্ষক- অষ্টম শ্রেণী | জে. মুখোপাধ্যায়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close