আকবরের শাসন ব্যবস্থার পরিচয় দাও | Regime of Akbar


  মোগল সম্রাট আকবর | আকবরের শাসন ব্যবস্থার পরিচয় 

ভূমিকা: মোগল যুগে আকবর প্রবর্তিত শাসনব্যবস্থা ছিল মধ্যযুগের ভারতে সর্বশ্রেষ্ঠ শাসনব্যবস্থা। তিনি তাঁর সাম্রাজ্যের সর্বত্র একই ধরনের আইন, বিচার ও রাজস্ব ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। শাসননীতিতে তিনি পুরাতন ও নতুন রীতিনীতির সংমিশ্রণ ঘটিয়ে মোগল শাসনব্যবস্থাকে আধুনিকরূপে গড়ে তোলেন। আকবরের শাসনব্যবস্থা ছিল কেন্দ্রীভূত স্বৈরতান্ত্রিক। 


আকবরের শাসনব্যবস্থা:

১. শাসনবিভাগ: আকবরের শাসনব্যবস্থা তিন ভাগে বিভক্ত ছিল—কেন্দ্রীয়, প্রাদেশিক ও স্থানীয় শাসনব্যবস্থা। 


কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা: কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থায় সবচেয়ে ওপরে ছিল সম্রাটের স্থান। শাসন পরিচালনায় সম্রাটকে সাহায্য করতেন ভকিল বা প্রধানমন্ত্রী, দেওয়ান বা অর্থমন্ত্রী এবং মীরবক্সি নামে সমর বিভাগের প্রধান ব্যক্তি।


প্রাদেশিক শাসনব্যবস্থা: আকবর তাঁর সাম্রাজ্যকে প্রথমে ১২টি প্রদেশে বা সুবায় ভাগ করেন, যা পরে বৃদ্ধি পেয়ে হয় ১৮টি। প্রাদেশিক শাসনে আকবরকে সাহায্য করতেন সুবাদার, দেওয়ান প্রমুখ কর্মচারী।


স্থানীয় শাসনব্যবস্থা: সুবা বা প্রদেশগুলিকে আকবর বিভিন্ন জেলায় বা সরকারে ভাগ করেন। জেলাগুলি আবার পরগনা বা মহকুমায় বিভক্ত ছিল। জেলার প্রধান ছিলেন ফৌজদার। তাকে স্থানীয় শাসনে সাহায্য করতেন সিকদার, আমিন, ফতোদার প্রমুখ কর্মচারী।


২. রাজস্বব্যবস্থা: টোডরমলের পরামর্শে আকবর রাজস্ব ব্যবস্থার বেশ কিছু সংস্কার করেন। তিনি জমি জরিপ করে জমির উৎপাদন শক্তির ভিত্তিতে রাজস্ব নির্ধারণ করেন। তিন ধরনের রাজস্ব সংগ্রহ পদ্ধতি চালু করেন। রাজস্ব বিভাগের দায়িত্ব ছিল দেওয়ান নামে কর্মচারীর ওপর।


৩. বিচারব্যবস্থা: সম্রাট আকবর নিজেই ছিলেন প্রধান বিচারক। তিনি প্রতিদিন দরবারে উপস্থিত থেকে নিজেই বিচারকাজ পরিচালনা করতেন। বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ কর্মচারী ছিলেন প্রধান কাজি। মুসলিম ও হিন্দু আইন অনুযায়ী পৃথক পৃথক ভাবে বিচারকাজ পরিচালিত হত। আকবরের শাসনকালে রাজদ্রোহিতার শাস্তি ছিল মৃত্যুদণ্ড এবং বিচারব্যবস্থা ছিল পক্ষপাতহীন ৷


৪. সামরিক ব্যবস্থা: মনসবদারি প্রথার ওপর ভিত্তি করে আকবরের আমলে সামরিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। পদাতিক, অশ্বারোহী, হস্তিবাহিনী, গোলন্দাজ ও নৌবাহিনী নিয়ে গঠিত ছিল সামরিক বিভাগ। যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে মোগল সেনারা ব্যবহার করত তিরধনুক, বর্শা, তরবারি, কামান, গোলাবারুদ ইত্যাদি।


৫. সামাজিক ব্যবস্থা: সামাজিক অসাম্য ও অনাচার রোধ করার ব্যাপারে আকবর সচেতন ছিলেন। তিনি হিন্দুদের ওপর ‘‘তীর্থ কর’ ও ‘জিজিয়া কর’ তুলে নেন।


মূল্যায়ন: আকবর প্রবর্তিত শাসনব্যবস্থাই প্রকৃত অর্থে মোগল শাসনব্যবস্থা। আকবরই প্রথম মোগল শাসনকে এক উদারনৈতিক শাসনব্যবস্থায় পরিণত করেন। মোগল প্রশাসনে সম্রাট হিসেবে আকবর সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী হলেও তিনি প্রতিটি শাসনবিভাগকে স্বাধীন ক্ষমতা দান করেছিলেন। আকবরের উদার শাসনব্যবস্থার অধীনে প্রজারা সবথেকে বেশি সুখী ও স্বচ্ছন্দ ছিল।


তথ্য সূত্র:

ইতিহাস শিক্ষক- অষ্টম শ্রেণী | জে. মুখোপাধ্যায়।


 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close