আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের ফলাফল | Results of The American War of Independence

আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের ফলাফল | আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রভাব | আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের তাৎপর্য


ভূমিকা: 

আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের (১৭৭৬-৮৩ খ্রি.) আদর্শ ছড়িয়ে পড়েছিল ইউরোপের বিভিন্ন দেশগুলিতে। প্রকৃত অর্থে আমেরিকার এই স্বাধীনতা যুদ্ধ এক নতুন ইউরোপের জন্ম দিয়েছিল। এই যুদ্ধ ইউরোপের রাজনীতিকে এক নতুন রূপ দিয়েছিল।


আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের ফলাফল: আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশে এই যুদ্ধের ব্যাপক প্রভাব পড়েছিল।

১. আমেরিকায়: আমেরিকায় এই স্বাধীনতা যুদ্ধের ফলে বেশ কিছু পরিবর্তন ঘটে। যেমন— ১ আমেরিকায় গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের আদর্শ মেনে জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র।


২. আমেরিকার সমাজ ব্যবস্থায় অভিজাতদের ক্ষমতা কমে যায়। সেখানকার সমাজে নবাগত ব্যবসায়ী ও বিত্তশালীরা প্রাধান্য লাভ করে। 


৩. আমেরিকাবাসী ধর্মীয় ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগের অধিকার লাভ করে।


৪. আমেরিকার অর্থনীতি বিশ্বে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিকাশের সুযোগ পায়।


২. ইংল্যান্ডে: 

এই যুদ্ধের ফলে ইংল্যান্ডেও বেশ কিছু পরিবর্তন সূচিত হয়। 

১. এই যুদ্ধে পরাজিত হয়ে ইংল্যান্ডের মর্যাদা অনেকটাই নষ্ট হয়।


২. যুদ্ধের পর উপনিবেশগুলি ব্রিটেনের হাতছাড়া হওয়ায় ব্রিটিশ উপনিবেশিক অর্থনীতি সংকটের মুখে পড়ে।


৩. ইংল্যান্ডের সংবিধানেও পরিবর্তন ঘটানো হয়। নতুন আইনে বলা হয় যে রাজা সাংবিধানিক প্রধান হলেও তিনি শাসনকার্যে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবেন না।


৩. ফ্রান্সে: 

ফ্রান্সেও আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রভাব পড়েছিল। 

১. আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে ষোড়শ লুই অর্থ সাহায্য করেছিলেন। এর ফলে ফ্রান্সে আর্থিক সংকট দেখা দেয়। এই সংকট মেটানোর জন্য ষোড়শ লুই স্টেটস-জেনারেল নামে ফ্রান্সের প্রতিনিধিসভার অধিবেশন ডাকেন (১৭৮৯ খ্রি.)। অধিবেশনে ভোটাধিকার ও শাসনতন্ত্র রচনার প্রশ্নে বিবাদ বাধে, যা ইন্ধন জোগায় ফরাসি বিপ্লবে।


২. আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে যোগদানকারী ফরাসি সেনারা গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। যুদ্ধশেষে স্বদেশে ফিরে তারা ফরাসিদের মধ্যে সেই গণতান্ত্রিক ভাবধারার প্রচার করে।


৪. ইউরোপের অন্যান্য দেশে: 

ইউরোপের অন্যান্য বেশ কয়েকটি দেশও আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল। 

১. ইতালিতে একদল মুক্তিযোদ্ধা ‘ফিলাডেলফিয়া’ নামে একটি গুপ্ত সমিতি গড়ে তুলে স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু করে।


২. স্পেনের উপনিবেশগুলিতে স্বাধীনতা সংগ্রাম আরও তীব্র হয়ে ওঠে।


৩. হল্যান্ডের অধিবাসীরা রাজতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। তারা উপনিবেশ বিস্তারের চেষ্টাকে বাধা দেয়।


৪. জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, পোল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের অধিবাসীরা আমেরিকার স্বাধীনতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ওঠে। তারা অনেকেই আমেরিকায় গিয়ে বসবাস করতে শুরু করে।


তথ্য সূত্র:

ইতিহাস শিক্ষক- অষ্টম শ্রেণী | জে মুখোপাধ্যায়। 



 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close