মহম্মদ বিন তুঘলক কেন তামার মুদ্রা প্রচলন করেছিলেন | Mahammad Been Thuglak


মহম্মদ বিন তুঘলক | প্রতীক মুদ্রা চালু করেছিলেন কেন | তামার মুদ্রা প্রচলন করেছিলেন কেন 


গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র জুনা খাঁ মহম্মদ-বিন-তুঘলক নাম ধারণ করে দিল্লীর সিংহাসনে আরোহণ করেন (১৩২৫-৫১ খ্রিঃ)। মহম্মদ-বিন-তুঘলক অসাধারণ মৌলিকত্ব ও সৃজনীশক্তির অধিকারী মহম্মদ-বিন-তুঘলক ছিলেন এক অদ্ভুত চরিত্রের মানুষ। পাণ্ডিত্য, চারিত্রিক দৃঢ়তা ও উচ্চ ভাবাদর্শে ভারত ইতিহাসের মধ্যযুগে কোন সুলতানই তাঁর সমকক্ষ ছিলেন না। ঐতিহাসিক লেনপুল-এর মতে, তাঁর ধ্যান-ধারণা ও আদর্শ ছিল যুগের চেয়ে অগ্রণী। মহম্মদ বিন তুঘলক তার রাজত্বে নানা পরীক্ষামূলক কর্মসূচি করেছিলেন। যার মধ্যে অন্যতম ছিল প্রতীক মুদ্রা বা তামার মুদ্রা প্রচলন।


১৩২৮-২৯ খ্রিস্টাব্দে মোঙ্গল নেতা তারমাসিরিন ভারত আক্রমণ করে এবং পাঞ্জাব, লাহোর ও মুলতান বিধ্বস্ত করে দিল্লী পর্যন্ত অগ্রসর হয়। মোঙ্গলদের বিরুদ্ধে কোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে প্রচুর অর্থের বিনিময়ে তিনি তাদের প্রত্যাবর্তনে সম্মত করান। সম্ভবতঃ দোয়াবের বিদ্রোহ ও রাজধানী স্থানান্তর প্রভৃতি ব্যাপারে ব্যস্ত থাকায় সুলতান তাদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন নি। 


রাজকোষের অর্থাভাব মেটাবার উদ্দেশ্যে রৌপ্যমুদ্রার পরিবর্তে চীন ও পারস্যের অনুকরণে মহহমদ বিন তুঘলক এক ধরনের ‘প্রতীকী মুদ্রা’ প্রবর্তন করেন (১৩২৯-৩০ খ্রিঃ)। এটি ছিল তাঁর সর্বাপেক্ষা মারাত্মক পরীক্ষামূলক পরিকল্পনা। এই মুদ্রায় ব্যবহৃত ধাতু সম্পর্কে সমকালীন ঐতিহাসিকরা একমত নন। বরণী-র মতে, এই প্রতীক মুদ্রায় তামা ব্যবহৃত হয়েছিল। অপরপক্ষে ফেরিস্তা ব্রোঞ্জের কথা বলেছেন। বিভিন্ন যাদুঘরে রক্ষিত মুদ্রাগুলি দেখে আধুনিক পণ্ডিতরা ব্রোঞ্জের কথাই মেনে নিয়েছেন।  


সমকালীন ঐতিহাসিকরা এর কারণ সম্পর্কে রাজকোষের ঘাটতি মেটাবার কথা বললেও, আধুনিক ঐতিহাসিকরা বলেন যে, চতুর্দশ শতকে সমগ্র বিশ্বব্যাপী রৌপ্য-সংকট দেখা দেয়, এবং রৌপ্য-সংকটের পরিপেক্ষিতে তিনি ব্রোঞ্জ-মুদ্রা প্রবর্তন করেন। এটি তাঁর গভীর দূরদৃষ্টির পরিচায়ক। এডোয়ার্ড টমাস, ডঃ মেহদী হোসেন প্রভৃতি ঐতিহাসিকেরা এই পরিকল্পনার প্রশংসা করেছেন। নানা কারণে এ ধরনের মুদ্রার প্রচলন যুক্তিপূর্ণ হলেও যাতে এই মুদ্রা জাল না হয় সেজন্য তিনি কোন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এর ফলে জাল নোটে দেশ ভরে যায়। বিদেশী বণিকরা এই মুদ্রা গ্রহণে অস্বীকৃত হলে ব্যবসাবাণিজ্য বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। শেষ পর্যন্ত সুলতান ব্রোঞ্জের নোট প্রত্যাহার করেন এবং ব্রোঞ্জের পরিবর্তে রৌপ্যমুদ্রা প্রদানে বাধ্য হন। এর ফলে সাম্রাজ্যের আর্থিক ভিত্তি আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।


তথ্য সূত্র:

স্বদেশ পরিচয় | জীবন মুখোপাধ্যায়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close