কোম্পানির দেওয়ানি লাভের গুরুত্ব | Diwani Rights 1765


ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের গুরুত্ব | দেওয়ানি লাভের ফলাফল | কোম্পানির দেওয়ানি লাভ


কোম্পানির দেওয়ানি লাভ:

মীরকাশিমকে বক্সারের যুদ্ধে পরাজিত করে কোম্পানি পুনরায় মীরজাফরকে বাংলার নবাব পদে বসায় (১৭৬৩ খ্রি.)। মীরজাফরের মৃত্যুর পর তাঁর নাবালক পুত্র নজম-উদ্-দৌলা বাংলার সিংহাসনে বসেন। নাবালক নবাবকে কোম্পানি পুতুলে পরিণত করে বাংলার সামরিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা দখল করে। ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে কোম্পানি দিল্লির সম্রাট শাহ আলমের সঙ্গে এলাহাবাদের দ্বিতীয় সন্ধি স্বাক্ষর করে। বার্ষিক ২৬ লক্ষ টাকার বিনিময়ে কোম্পানি বাংলা, বিহার ওড়িশার দেওয়ানি লাভ (১৭৬৫ খ্রি.) করে।


দেওয়ানি লাভের গুরুত্ব: 

রাজস্ব আদায় ও দেওয়ানি বিচারের সুযোগ লাভ বাংলার ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ। 


১. দেওয়ানি লাভ করে কোম্পানি বাংলা, বিহার, ওড়িশায় আইনগত স্বীকৃতি পায়।   


২. কোম্পানির হাতে থাকে রাজস্ব আদায় ও দেওয়ানি বিচারের ভার আর নবাবের হাতে থাকে ফৌজদারি ও প্রশাসনিক দায়িত্ব অর্থাৎ কোম্পানি পায় দায়িত্বহীন ক্ষমতা আর নবাবের হাতে থাকে ক্ষমতাহীন দায়িত্ব।  


৩. বাংলা-বিহার-ওড়িশার রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব পেয়ে কোম্পানির আর্থিক সচ্ছলতা আগের থেকে অনেক গুণ বৃদ্ধি পায়। এই অর্থকে তারা বাণিজ্যের প্রসার ও সেনাবাহিনী গঠনের কাজে লাগায়। 


৪. দেওয়ানি লাভের পর থেকে কোম্পানি তাদের রাজস্ব থেকে প্রাপ্ত অর্থেই পণ্যসামগ্রী ক্রয় করে। ইংল্যান্ড থেকে ভারতে কোম্পানিকে অর্থ পাঠানো বন্ধ হয়।


তথ্য সূত্র:

ইতিহাস শিক্ষক- অষ্টম শ্রেণী | জে মুখোপাধ্যায়। 



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close