রণজিৎ সিংহের কৃতিত্ব আলোচনা করো | Achievements of Ranjit Singh


 রণজিৎ সিংহের কৃতিত্ব | শিখ শক্তির উত্থানে রণজিৎ সিংহের ভূমিকা 


ভূমিকা: 

পাঞ্জাবের সুকারচুকিয়া মিশলের (প্রদেশের) অধিপতি মহা সিংহের পুত্র রঞ্জিৎ সিংহের নেতৃত্বে শিখ শক্তির উত্থান ঘটেছিল। বিবদমান ও বিচ্ছিন্ন শিখজাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে এক অখণ্ড শিখ রাজ্য স্থাপনে রঞ্জিৎ সিংহের প্রচেষ্টা স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।


শিখ শক্তির উত্থানে রঞ্জিৎ সিংহের ভূমিকা:


শতদ্রু নদীর তীরের শিখ-মিশল দখল:

পিতার মৃত্যুর পর মাত্র ১২ বছর বয়সে রঞ্জিৎ সিংহ সুকারচুকিয়া মিশলের অধিপতি হন (১৭৯২ খ্রি.)। এরপর তিনি শিখ-মিশলগুলিকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ শুরু করেন। আফগান অধিপতি জামান শাহের সহযোগিতায় তিনি লাহোরের শাসনকর্তা হন (১৭৯৯ খ্রি.)। লাহোরের শাসক হয়ে রঞ্জিৎ সিংহ অমৃতসর নদীর পশ্চিম তীরের রামগড়িয়া, ভাঙ্গি, আলুওয়ালিয়া, কানহাইয়া প্রভৃতি মিশল দখল করেন।


শতদ্রুর পূর্ব তীরের মিশল দখল:

অখিল শিখ সাম্রাজ্য স্থাপনের লক্ষ্যে রঞ্জিৎ সিংহ শতদ্রু নদীর পূর্ব তীরের মিশলগুলি দখলের জন্য তিনবার অভিযান চালান। রঞ্জিৎ সিংহ লুধিয়ানা দখল করলেও পূর্ব তীরের অন্যান্য মিশলের অধিপতিরা তাঁর বশ্যতা স্বীকার করতে রাজি ছিল না। তারা ইংরেজের শরণাপন্ন হয়।  


অমৃতসরের সন্ধি: 

গভর্নর জেনারেল লর্ড মিন্টোর মধ্যস্থতায় চার্লস মেটকাফের নেতৃত্বে রঞ্জিৎ সিংহ এবং ইংরেজদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় ‘অমৃতসরের সন্ধি’ (১৮০৯ খ্রি.)। এই সন্ধির শর্তানুযায়ী শতদুর পশ্চিম তীরের রাজ্যগুলির ওপর রঞ্জিৎ সিংহের কর্তৃত্ব স্বীকৃত হয়। কিন্তু পূর্ব তীরের রাজ্যগুলির ওপর অধিকারের দাবি রঞ্জিৎ সিংহকে ত্যাগ করতে হয়। ফলে রঞ্জিৎ সিংহের অখিল শিখ রাজ্য স্থাপনের স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যায়।


উত্তর,উত্তর-পশ্চিমে রাজ্য বিস্তার: 

অমৃতসরের সন্ধির পর রঞ্জিৎ সিংহ উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে রাজ্য বিস্তারে মনোনিবেশ করেন। তিনি একে একে কাংড়া, পাঠানকোট, শিয়ালকোট, মুলতান অধিকার করেন। আফগানদের সঙ্গে সংঘর্ষে জয়ী হয়ে তিনি আটক, পেশোয়ার, কাশ্মীর ও লাদাখ দখল করেন।


চিরস্থায়ী মিত্রতা চুক্তি: 

রঞ্জিৎ সিংহ সিন্ধুদেশ জয়ের উদ্যোগ নিলে গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তিনি লাহোরে রঞ্জিৎ সিংহের সঙ্গে চিরস্থায়ী মিত্রতা চুক্তি (১৮৩১ খ্রি.) স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তি স্বাক্ষর করায় সিন্ধু অঞ্চলের সমুদ্র উপকূল পর্যন্ত রঞ্জিৎ সিংহের রাজ্যবিস্তার বাধাপ্রাপ্ত হয়।


 মূল্যায়ন: 

মৃত্যুর এক বছর পূর্বে রঞ্জিৎ সিংহ আফগানিস্তানের পূর্বতন শাসক শাহ সুজা ও ইংরেজদের সঙ্গে ত্রিশক্তি চুক্তিতে (১৮৩৮ খ্রি.) আবদ্ধ হন। একজন মহান সংগঠক, বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ ও বীর যোদ্ধা হিসেবে রঞ্জিৎ সিংহ ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তিনি যেভাবে শিখ জাতির একটি বিরাট অংশকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিলেন তার জন্যই ফরাসি পর্যটক ভিক্টর জ্যাকিমো তাঁকে ‘নেপোলিয়নের ক্ষুদ্র সংস্করণ’ বলে অভিহিত করেছেন।

তথ্য সূত্র:

ইতিহাস শিক্ষক- অষ্টম শ্রেণী | জে মুখোপাধ্যায়। 


Your Money: Commitment resources for give better returns in the oncoming year CLICK HERE

Astute may tumble to 17650 till it holds under 17950; buy these two stocks to take fleeting augmentations CLICK HERE

Hot stocks: Religare Broking guesses that these 5 stocks ought to empower up to 35% in 2023 CLICK HERE

What are the RBI rules for portion entrances in India? How to get the grant for something practically the same? - CLICK HERE



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close