আরবদের সিন্ধু বিজয়ের তাৎপর্য বা ফলাফল


আরবদের সিন্ধু বিজয়ের প্রভাব | আরবদের সিন্ধু বিজয়ের তাৎপর্য | ফলাফল

ইংরেজ ঐতিহাসিক স্ট্যান্‌লি লেনপুল (Lane-pool)-এর মতে, আরবদের সিন্ধুজয় ভারত ও ইসলামের ইতিহাসে ফলাফলহীন একটি ঘটনামাত্র। ভারতে মুসলিম আধিপত্য বিস্তারের ইতিহাসে সিন্ধুজয় প্রথম পদক্ষেপ হলেও ভারতের ইতিহাসে এই ঘটনা কোন স্থায়ী রেখাপাত করে নি। আরব আধিপত্য দীর্ঘস্থায়ী হয় নি এবং তা একমাত্র সিন্ধুতেই সীমাবদ্ধ ছিল—সিন্ধুদেশকে কেন্দ্র করে কখনই তা ভারতের অন্তর্দেশে বিস্তৃত হতে পারে নি। ভারতের বৃহত্তর জনজীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মুসলিম শক্তিকে কেবলমাত্র সিন্ধুদেশেই প্রায় তিনশ’ বছর আবদ্ধ থাকতে হয়। 


সিন্ধুদেশে মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেও, ভারতীয় ভাষা, সাহিত্য, শিল্প, বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিছু শাসন-পদ্ধতি বা সামাজিক রীতিনীতির ওপর আরব শাসনেরই কোন প্রভাব পড়ে নি। বিপরীতভাবে, আরবরা ভারতীয় সংস্কৃতি দ্বারা যথেষ্টভাবে প্রভাবিত হয়। সিন্ধু অঞ্চলে অবস্থিত বিদ্যালয়গুলির মাধ্যমে আরবরা ভারতীয় দর্শন, চিকিৎসাবিদ্যা, জ্যোতির্বিদ্যা, গণিত, সঙ্গীত, চিত্রকলা প্রভৃতি বিষয়ে জ্ঞানলাভ করে এবং তাদের মাধ্যমে তা ইওরোপে সম্প্রসারিত হয়।


‘খলিফা মনসুর’-এর আমলে ভারত থেকে বেশ কিছু হিন্দু পণ্ডিত, সংগীতজ্ঞ, চিত্রশিল্পী ও রাজমিস্ত্রী আরবে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। খালিফা মনসুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ব্রহ্মগুপ্ত-রচিত ‘ব্রহ্মসিদ্ধান্ত’ ও ‘খাদ্য-খাণ্ডক’ নামে দুটি সংস্কৃত গ্রন্থ আরবীয় ভাষায় অনুদিত হয়। আমীর খসরুর রচনা থেকে জানা যায় যে, আরব জ্যোতির্বিদ আবু মাশার বারাণসীতে দশ বছর ধরে জ্যোতির্বিদ্যা অধ্যয়ন করেন। আরবদের সিন্ধু জয়ের অর্থনৈতিক ফলাফলও উপেক্ষণীয় নয়। আরব-অধিকৃত সিন্ধুর মাধ্যমে সমগ্র মুসলিম দুনিয়ার সঙ্গে ভারতের অকিঞ্চিৎকর


তথ্য সূত্র:

স্বদেশ পরিচয় | জীবন মুখোপাধ্যায়।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close