মুসলিম আক্রমণের কালে উত্তর ও পশ্চিম ভারতের অবস্থা


মুসলিম আক্রমণের কালে উত্তর ও পশ্চিম ভারতের অবস্থা | ভারতবর্ষে মুসলিম অভিযান | ভারতে তুর্কি অভিযান


ভূমিকা:

আরবদের সিন্ধু জয়ের পর (৭১২ খ্রিঃ) প্রায় তিনশ’ বছর পর্যন্ত মুসলিম শক্তি ভারতে কোন রাজ্য বিস্তার করতে সক্ষম হয় নি। ভারতে মুসলিম রাজত্ব স্থাপন তুর্কীদের কীর্তি এবং এ কাজ শুরু করেন আফগানিস্তানের অন্তর্গত গজনী রাজ্যের তুর্কী সুলতানরা।


রাজনৈতিক দিক: 

দশম শতকের সমাপ্তি ও একাদশ শতকের সূচনায় তুর্কী আক্রমণের প্রাক্কালে ভারতে কোন কেন্দ্ৰীয় শক্তি ছিল না। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বিবদমান কয়েকটি স্থানীয় শক্তি তখন দেশ শাসন করত। হিন্দুকুশ পর্বতমালা থেকে পাঞ্জাবের চেনার নদ পর্যন্ত অঞ্চলে রাজপুত শাহী বংশ রাজত্ব করত। প্রায় তিনশ’ বছর ধরে শাহী বংশ সাফল্যের সঙ্গে আরব আক্রমণ প্রতিরোধ করে। ভৌগোলিক অবস্থিতির জন্য এই রাজবংশকেই সর্বপ্রথম গজনী থেকে আগত তুর্কীদের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে লিপ্ত হতে হয়। পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য কাশ্মীর-এর অবস্থা তখন সন্তোষজনক ছিল না। উত্তর ভারতের অন্যতম প্রধান রাজ্য কনৌজের প্রতিহার শক্তির দুর্বলতার সুযোগে দিল্লী-আজমীরে চৌহান, গুজরাটে চৌলুক্য, মালবে পারমার, বুন্দেলখণ্ডে চন্দেল্ল, বিলাসপুর-জব্বলপুর অঞ্চলে কলচুরি প্রভৃতি রাজপুত বংশের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলার পাল বংশীয় রাজন্যবর্গ তখন দুর্বল ছিলেন। এইসব পরস্পর-বিরোধী শক্তিগুলির মধ্যে সর্বদাই যুদ্ধ-বিগ্রহ লেগে থাকত এবং দেশের সামগ্রিক স্বার্থ উপেক্ষা করে নিজ নিজ রাজ্য ও বংশের গৌরব বৃদ্ধি করাই এই সব রাজন্যবর্গের লক্ষ্য ছিল।


সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা:

ভারতীয় সমাজের নৈতিক মেরুদণ্ডও সেদিন ভেঙ্গে পড়েছিল। ক্ষেমেন্দ্রের রচনায় এই নৈতিক অধঃপতনের চিত্র সুপরিস্ফুট। জাতিভেদ, বর্ণপ্রথা, অস্পৃশ্যতা, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, কৌলিন্য প্রথা, নারীর প্রতি চরম অবহেলা, আচারের আতিশয্য এবং ধর্মের নামে প্রচণ্ড গোঁড়ামি, দেবদাসী প্রথা ও রুচির বিকৃতি সমাজের প্রাণশক্তিকে সেদিন নিস্তেজ করে দেয়। অর্থনৈতিক দিক থেকে ভারত সমৃদ্ধশালী দেশ ছিল এবং অভিজাত সম্প্রদায় বিলাস ব্যসনের মধ্যে দিন অতিবাহিত করতেন। সাধারণ পল্লীবাসী, কৃষক ও কারিগরেরা ছিল অতি দরিদ্র ও চরম অবহেলিত। সামাজিক ন্যায়বিচারের অভাবে তারা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। জাতীয় জীবনের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে গজনীর সুলতান মামুদ ভারত আক্রমণ করেন।


তথ্য সূত্র:

১. স্বদেশ পরিচয় - জীবন মুখোপাধ্যায়।





একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close