হরপ্পা সভ্যতার ধর্মীয় জীবন | সিন্ধু সভ্যতার ধর্মীয় জীবন | Religious Life of Harappan Civilization


হরপ্পা সভ্যতার ধর্মীয় জীবন | সিন্ধু সভ্যতার ধর্মীয় জীবন | Religious Life of Harappan Civilization


ভূমিকা:

সিন্ধু উপত্যকায় পোড়ামাটি, তামা ও ব্রোঞ্জের প্রচুর সীলমোহর আবিষ্কৃত হয়েছে। পণ্ডিতদের অনুমান ব্যবসাবাণিজ্যের জন্যই ঐসব সীলমোহর তৈরী হয়েছিল। এইসব সীলমোহরে বিভিন্ন জীবজন্তু ও জলযানের চিত্র অংকিত আছে। এ থেকে মনে হয় যে, এইসব জীবজন্তু ও জলযান তাদের সুপরিচিত ছিল। আবার কিছু সীলমোহরে চিত্রলিপি উৎকীর্ণ আছে। এগুলিই হল ‘সিন্ধু লিপি' বা ‘হরপ্পা লিপি’। চিত্রলিপির স্তর অতিক্রম করা সিন্ধ লিপির পক্ষে সম্ভব হয়নি। এইসব লিপি এখনও পাঠোদ্ধার করা সম্ভব হয়নি—তবে একথা ঠিক যে, এই লিপি ডানদিক থেকে বাঁদিকে পড়া হত।


১. মূর্তি ও মন্দির:

হরপ্পা সভ্যতায় মন্দিরের অস্তিত্ব সম্পর্কে সন্দেহ আছে। কয়েকটি বড় বড় অট্টালিকাকে অনেকে মন্দির বলে মনে করেন। সেগুলি মন্দির হলেও সেখানে বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করে পুজোর রীতি প্রচলিত ছিল না। সিন্ধু উপত্যকায় প্রচুর অর্ধনগ্ন নারীমূর্তি মিলেছে। পণ্ডিতরা এই মূর্তিগুলিকে মাতৃমূর্তি বা ভূমাতৃকা বলেছেন। একটি সীলে বাঘ, হাতী, গণ্ডার, মোষ ও হরিণ—এই পাঁচটি পশু দ্বারা পরিবৃত ও ত্রিমুখবিশিষ্ট ধ্যানমগ্ন এক যোগীমূর্তি দেখা যায়।


২. ধর্ম:

সিন্ধুবাসীদের মধ্যে বৃক্ষ, আগুন, জল, সাপ, বিভিন্ন জীবজন্তু, লিঙ্গ উপাসনাও প্রচলিত ছিল। কয়েকটি সীে একটি সীলে একটি অর্ধ-নর অর্ধ-বৃষ মূর্তিকে একটি সূর্যের প্রতীক স্বস্তিকা ও চক্র পাওয়া গেছে। একটি সীলে একটি অর্ধ-নর অর্ধ-বৃষ মূর্তি একটি বাঘের সঙ্গে লড়াই করতে দেখা যাচ্ছে। এই মূর্তিটি হল সুমেরের গিলগমেশ নামক বীরের সাহায্যকারী অর্ধ-নর অর্ধ-বৃষ আকৃতি -বিশিষ্ট ‘ইঅবনি’ মূর্তির অনুরূপ। সিন্ধু উপত্যকার এই মূর্তি সুমেরীয় সভ্যতার সঙ্গে হরপ্পা সভ্যতার ঐক্য প্রমাণ করে। এছাড়া, এই মূর্তি পৌরাণিক যুগের হিরণ্যকশিপু নিধনকারী নৃসিংহ মূর্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। মনে হয় যে, সিন্ধুবাসীরা এই নর-বৃষ মূর্তিকে দেবতা-জ্ঞানে পূজা করত।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close