জাতি ও রাষ্ট্রের মধ্যে পার্থক্য আলোচনা করো | Distinction Between Nations and State


জাতি ও রাষ্ট্রের মধ্যে পার্থক্য আলোচনা করো | একাদশ শ্রেণী রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন | একাদশ শ্রেণী রাষ্ট্রবিজ্ঞান বড় প্রশ্ন উত্তর | Class 11 Political Science Suggestion


ভূমিকা:

ইংরেজি Nation শব্দটি লাতিন শব্দ ‘natio’ থেকে এসেছে। নেশন শব্দটির অর্থ হল, একই পূর্বপুরুষ থেকে উদ্ভুত। এই নেশন শব্দটিকে বাংলায় ‘জাতি’ অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। ‘জাতি’ শব্দটি বাংলায় বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। জাতি বলতে কখনও বর্ণ, আবার কখনও কুল, বর্ণভেদ (Varna) উপজাতি (Tribe) বোঝায়। এমনকি ‘জাতি’ ও ‘রাষ্ট্র’ শব্দ দুটিকেও অনেক সময় একই অর্থে ব্যবহার করা হয়। জাতি শব্দটি দ্বারা রাষ্ট্রকে বোঝানো হয়ে থাকে। জাতিসংঘ (League of Nations) বলতে অনেকগুলি রাষ্ট্রের সম্মিলিত সংস্থাকে বোঝায়।

সংজ্ঞা: 

জাতি হল একটি জনসমাজ যা ক্রমবিকাশের ধারাবাহিকতায় সর্বোচ্চ শিখরে উপনীত হয়েছে, জাতি হল জনসমাজের চূড়ান্ত অভিব্যক্তি।

জাতীয় জনসমাজের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার স্তর গভীর হলে জাতির উদ্ভব হয়, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে জাতি পরিণতি লাভ করে। জাতির সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বার্জেস বলেছেন, একই ভূখণ্ডে বসবাসকারী কোনো জনসমাজ যদি একই ভাষা ও সাহিত্য, একই ঐতিহ্য ও ইতিহাস, একই আচার-ব্যবহার, একই ধরনের ন্যায়-অন্যায়বোধ ও সুখ-দুঃখের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয় তবে তাকে জাতি বলে অভিহিত করা যায়।


জাতি ও রাষ্ট্রের মধ্যে পার্থক্য:

জাতি ও রাষ্ট্র এক নয়, আলাদা। উভয়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য বর্তমান।

১. রাষ্ট্র গঠিত হয় মূলত চারটি উপাদান নিয়ে। এই উপাদান চারটি হল : জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমিকতা। কিন্তু জাতি গঠনের জন্য এই উপাদানগুলি লাগে না। জনসমাজের মধ্যে গভীর ঐক্য হল জাতি গঠনের মূল উপাদান। 

২ রাষ্ট্র সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। রাষ্ট্রের হাতে কেন্দ্রীভূত এই ক্ষমতা সরকারের মাধ্যমে প্রযুক্ত হয়। জাতি বলতে যা বোঝায় তার সার্বভৌম ক্ষমতা বা ক্ষমতা প্রয়োগের যন্ত্র, সরকার নেই।

৩. একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে একটি জনসমাজ আইনগতভাবে সংগঠিত হলে রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। কিন্তু জাতি বলতে এমন এক জনসমাজকে বোঝায় যাদের মধ্যে একসঙ্গে বসবাসের সাধারণ ইচ্ছা আছে এবং যারা মনস্তাত্ত্বিকভাবে সংগঠিত। 

৪. রাষ্ট্র একজাতিভিত্তিক বা বহুজাতিভিত্তিক হতে পারে। একজাতিভিত্তিক রাষ্ট্রের উদাহরণ হল : জার্মানি, জাপান, হাঙ্গেরি, সুইডেন প্রভৃতি। অপরদিকে বহুজাতিভিত্তিক রাষ্ট্রের উদাহরণ হল : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া প্রভৃতি। রাষ্ট্র ও জাতির সীমানা বা আয়তন খুব কম ক্ষেত্রেই সমানুপাতিক হয়।

৫. জাতির নিজস্ব রাষ্ট্র বিলুপ্ত হতে পারে, এতদ্‌সত্ত্বেও জাতি টিকে থাকতে পারে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে রাষ্ট্র হিসাবে জাপান ও জার্মানের পতন ঘটে। কিন্তু জাতি হিসাবে জার্মান ও জাপানিরা টিকে ছিল।

৬. রাষ্ট্র হল একটি আইনগত ধারণা। এর রাজনীতিক বাস্তবতা বিরোধ বিতর্কের ঊর্ধ্বে। কিন্তু জাতি হল একটি ভাবগত ধারণা। এ হল এক মনস্তাত্ত্বিক অনুভূতির দ্বারা ঐক্যের চেতনা।


উপসংহার:

উপসংহারে বলা যায়, জাতি আর রাষ্ট্র এক নয়। কিন্তু রাষ্ট্র যদি জাতিভিত্তিক হয়, তবে এক জাতি এক রাষ্ট্র হবে এবং জাতি ও রাষ্ট্র সমার্থক হবে। রাষ্ট্র যখন বহু জাতিভিত্তিক হয়, তখন তার সঙ্গে জাতির পার্থক্য অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে ওঠে।


তথ্য সূত্র:

১. উচ্চমাধ্যমিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের রূপরেখা | অনাদিকুমার মহাপাত্র।

২. উচ্চমাধ্যমিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান সহায়িকা | Tallent Booster | ড. চণ্ডীদাস মুখোপাধ্যায়।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close