স্বাধীনতার প্রকারভেদ আলোচনা করো | Different froms of Liberty


স্বাধীনতার সংজ্ঞা দাও। এর প্রকারভেদ আলোচনা করো | একাদশ শ্রেণী রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন | একাদশ শ্রেণী রাষ্ট্রবিজ্ঞান বড় প্রশ্ন উত্তর


স্বাধীনতার সংজ্ঞা:

ব্যুৎপত্তিগত অর্থে স্বাধীনতা বলতে স্ব-অধীনতা বা নিজের অধীনতাকে বোঝায়। অর্থাৎ নিজের ইচ্ছামতো আচার-আচরণের সুযোগ-সুবিধা। কিন্তু এ হল স্বেচ্ছাচারের নামান্তর। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্বাধীনতা শব্দটি এই অর্থে ব্যবহৃত হয় না। বিনা বাধায় খুশিমতো কাজ করার অধিকার স্বীকৃত হলে উচ্ছৃঙ্খলতা প্রকাশ পায়। এতে স্বাধীনতা মুষ্টিমেয় সবল ব্যক্তির করায়ত্ত হয়। দুর্বলের কোনো স্বাধীনতা থাকে না। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্বাধীনতা বলতে নিয়ন্ত্রণবিহীনতা বা অবাধ অধিকারকে বোঝায় না।

ল্যাস্কির মতানুসারে, ‘স্বাধীনতা বলতে এক বিশেষ পরিবেশকে বোঝায়, যে পরিবেশে মানুষ তার ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণ বিকাশ সাধন করতে পারে’। ল্যাস্কির মতে, ‘স্বাধীনতা বলতে আমি বুঝি সেই পরিবেশের সযত্ন সংরক্ষণ যেখানে মানুষ তার সত্তাকে পরিপূর্ণভাবে বিকশিত করার সুযোগ পায়’।


স্বাধীনতার প্রকারভেদ বা বিভিন্ন রূপ:

স্বাধীনতার বিভিন্ন রূপ: রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্বাধীনতার প্রকৃতি আলোচনায় স্বাধীনতাকে বিভিন্ন রূপে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। স্বাধীনতার রূপগুলিকে কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়—


১. প্রাকৃতিক স্বাধীনতা: 

রাষ্ট্র সৃষ্টি হওয়ার আগে মানুষ যে প্রকৃতির রাজ্যে বসবাস করত এবং স্বাধীনতা ভোগ করত তাকেই প্রাকৃতিক স্বাধীনতা বলে। এ প্রসঙ্গে রুশো বলেছেন, মানুষ স্বাধীন হয়েই জন্মগ্রহণ করে কিন্তু সে চারিদিক থেকে শৃঙ্খলাবদ্ধ। প্রকৃতির রাজ্যে যে স্বাধীনতার কথা বলা হয় তা কেবল কল্পনামাত্র।


২. পৌর স্বাধীনতা: 

সমাজবদ্ধ মানুষের ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণ বিকাশ এবং সমাজ-জীবনের সুখসমৃদ্ধির স্বার্থে কতকগুলি অধিকার অপরিহার্য। এই অধিকারগুলিকে পৌর অধিকার বলে। দৃষ্টান্ত হিসাবে জীবনের অধিকার, সম্পত্তির অধিকার, ধর্মাচরণের স্বাধীনতা, বাক্য ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এই সকল অধিকারের অস্তিত্ব ছাড়া মানুষের সমাজ-জীবন সার্থক হতে পারে না।


৩. সামাজিক স্বাধীনতা: 

সমাজ ও রাষ্ট্র এক নয়। মানুষের সামাজিক জীবন ও রাষ্ট্রনৈতিক জীবনের মধ্যে পার্থক্য থাকে। মানুষ তার সামাজিক জীবনে যে স্বাধীনতা ভোগ করে তাকে সামাজিক স্বাধীনতা বলে। বর্তমানে সামাজিক স্বাধীনতা রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত হয়।


৪. জাতীয় স্বাধীনতা: 

স্বাধীন দেশই কেবল নাগরিকদের সকল প্রকার স্বাধীনতা সৃষ্টি ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারে। জাতীয় স্বাধীনতা ছাড়া অন্যান্য স্বাধীনতার অস্তিত্ব অসম্ভব। স্বাধীনতা বলতে অপর রাষ্ট্রের সর্বপ্রকার কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্তি বোঝায়। ভারত ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগষ্ট জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন করেছে।


৫.ব্যক্তিগত স্বাধীনতা: 

প্রাচীনকালে গ্রিকরা ব্যক্তিগত ও সম্প্রদায়গত স্বাধীনতার ধারণায় বিশ্বাসী ছিলেন। এথেন্সের অধিবাসীরা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বলতে স্বশাসন, প্রাত্যহিক অভাবঅভিযোগ থেকে মুক্তি এবং ব্যক্তিগত সুখ-সুবিধার স্বার্থে বাহ্যিক আচার-আচরণের উপর নিয়ন্ত্রণের অনুপস্থিতিকে বোঝাতেন। এথেন্সবাসীদের সম্প্রদায়গত স্বাধীনতার ধারণা এখনকার জাতীয় স্বাধীনতার ধারণার অনুরূপ ছিল।


৬. আইনসংগত স্বাধীনতা: 

আইনসংগত স্বাধীনতা বলতে, রাষ্ট্রকর্তৃক আইনের মাধ্যমে স্বীকৃত, সংরক্ষিত ও নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতাকে বোঝায়। এই স্বাধীনতা সুস্পষ্ট, সুনির্দিষ্ট এবং সুনিয়ন্ত্রিত। বৃহত্তম স্বার্থে রাষ্ট্র আইনের মাধ্যমে সকলের স্বাধীনতার উপর প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে থাকে।


তথ্য সূত্র:

১. উচ্চমাধ্যমিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের রূপরেখা | অনাদিকুমার মহাপাত্র।

২. উচ্চমাধ্যমিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান সহায়িকা | Tallent Booster | ড. চণ্ডীদাস মুখোপাধ্যায়।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close