পল্লব স্থাপত্য ভাস্কর্য ও চিত্রকলা সম্পর্কে আলোচনা করো


পল্লব স্থাপত্য ও ভাস্কর্য | পল্লব শিল্পচর্চা | পল্লব স্থাপত্য শিল্প

স্থাপত্য, ভাস্কর্য ও চিত্রকলার ইতিহাসে পল্লব যুগ বিশেষ উল্লেখের দাবি রাখে। দক্ষিণ ভারতের শিল্পকলার উৎকর্ষ বিধানে পল্লব, চোল, চালুক্য, রাষ্ট্রকূট প্রভৃতি রাজবংশের অবদান অনস্বীকার্য। দাক্ষিণাত্যের পল্লব-রাজগণ প্রস্তর-নির্মিত অসংখ্য কারুকার্যময় মন্দির নির্মাণ করেন। পল্লব মন্দিরগুলি ছিল দু'ধরনের- (১) পাহাড় কেটে বৌদ্ধ বিহারের অনুকরণে বা রথের আকৃতি-যুক্ত মন্দির, এবং (২) স্বাধীনভাবে তৈরী মন্দির। পাহাড় কেটে মন্দির গঠনের পদ্ধতি সর্বপ্রথম পল্লবদের দ্বারাই আবিষ্কৃত হয়। 

প্রথম মহেন্দ্রবর্মণের আমলে ত্রিচিনপল্লী, চিঙ্গলপেট ও আর্কট জেলায় পাহাড় কেটে বেশ কিছু সুন্দর সুন্দর মন্দির নির্মিত হয়। প্রথম নরসিংহবর্মণ রথের আকারে মন্দির নির্মাণ-রীতি প্রবর্তন করেন। গোটা একটি পাহাড় বা পাথর কেটে মন্দিরের আকৃতি দেওয়া হত। মহাবলীপুরমের এই সব রথ-মন্দিরগুলির মধ্যে ধর্মরাজ রথ, দ্রৌপদী রথ, অর্জুন রথ ও ভীম রথ উল্লেখযোগ্য। দ্বিতীয় নরসিংহবর্মণের আমলে নির্মিত কাঞ্চীর কৈলাসনাথ মন্দির, বৈকুন্ঠ পেরুমল মন্দির, ত্রিপুরান্তকেশ্বর ও ঐরাবতেশ্বর মন্দির এবং মহাবলীপুরমের মুক্তেশ্বর মন্দির পল্লব মন্দির স্থাপত্যের উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। এইসব মন্দিরের গঠন-সৌষ্ঠব, ভাস্করকৌশল এবং ভাস্করকৌশল এবং মন্দিরগাত্রে খোদাই করা মূর্তিগুলি আজও দর্শকদের বিস্ময় উৎপাদন করে।  

মন্দির-গাত্রে অংকিত গঙ্গাবতরণ বা গঙ্গার মর্তে আগমন এবং বিষ্ণুর অনন্ত শয়ান এই ধরনের দু’টি বিখ্যাত ভাস্কর্য-কর্ম। এই মন্দিরগুলির অনুকরণে ভারতের বাইরে কম্বোজ, আন্নাম ও যবদ্বীপে মন্দির ও মূর্তিনির্মাণ করার রীতি শুরু হয়। ঐতিহাসিক স্মিথ বলেন যে, “পল্লব যুগের স্থাপত্য ও ভাস্কর্য ভারতীয় শিল্পের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ও মনোরম অধ্যায়।”


তথ্য সূত্র:

স্বদেশ পরিচয় | জীবন মুখোপাধ্যায়।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close