পাল ও সেন যুগের ধর্মীয় জীবন সম্পর্কে আলোচনা করো


পাল ও সেন যুগের ধর্মীয় জীবন | পাল যুগের ধর্মীয় জীবন | সেন যুগের ধর্মীয় জীবন

পাল যুগের ধর্মীয় জীবন:

পালরাজারা বৌদ্ধধর্মাবলম্বী ও বৌদ্ধধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। এই সময় ভারতের ধর্ম— পালযুগে অন্যান্য স্থানে বৌদ্ধধর্ম দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বাংলা ও বিহার-ই তখন বৌদ্ধধর্মের একমাত্র আশ্রয়-স্থলে পরিণত হয়। পালযুগে বহু বৌদ্ধবিহার ও বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হলেও এ সময় যে বৌদ্ধধর্ম প্রচলিত ছিল, তা মূল বৌদ্ধধর্ম থেকে পৃথক। বৌদ্ধধর্ম মহাযান মতবাদ এবং বজ্রযান ও তন্ত্রযান প্রভৃতিতে রূপান্তরিত হয়ে নতুন রূপ ধারণ করে। এগুলি সহজযান বা সহজিয়া ধর্ম নামে পরিচিত। সহজিয়া ধর্মমতে গুরুর স্থান সর্বাগ্রে। এই ধর্মমতের আচার্যরা ‘সিদ্ধাচার্য’ নামে পরিচিত। বৌদ্ধ হলেও পালরাজারা ছিলেন পরধর্মমত সহিষ্ণু।


সেন যুগের ধর্মীয় জীবন:

ব্রাহ্মণ্য ধর্মের পরম পৃষ্ঠপোষক সেনরাজাদের আমলে পৌরাণিক ব্রাহ্মণ্য ধর্ম প্রবল হয়ে ওঠে এবং বৌদ্ধধর্ম কোণঠাসা হয়ে পড়ে। এই যুগে একাধারে বৈদিক ব্রাহ্মণ্য ধর্ম ও অন্যদিকে পৌরাণিক হিন্দুধর্ম—দুই-ই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সূর্য, অগ্নি, ইন্দ্ৰ প্ৰভৃতি বৈদিক দেবতার পূজা ও বৈদিক শাস্ত্রাদির চর্চা বৃদ্ধি পায়। শিব, দুর্গা, কার্তিক, গণেশ, বিষ্ণু, লক্ষ্মী, সরস্বতী প্রভৃতি পৌরাণিক দেবদেবীর পূজা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এ সময় বাংলায় বৈষ্ণব ধর্মমতও বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ব্রাহ্মণ্য ধর্মের প্রাবল্যে বৌদ্ধধর্ম ক্রমশঃ দুর্বল হয়ে পড়ে। বহু বৌদ্ধমঠে হিন্দু দেবদেবীর পূজা শুরু হয়।

 

তথ্য সূত্র:

স্বদেশ পরিচয় | জীবন মুখোপাধ্যায়

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close