পালরাজা ধর্মপালের কৃতিত্ব আলোচনা করো


ধর্মপালের কৃতিত্ব | ধর্মপালের অবদান

ভূমিকা:

গোপালের পুত্র ধর্মপালের রাজত্বকাল বাংলার ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায়। তিনি ছিলেন প্রাচীন বাংলার সর্বশ্রেষ্ঠ সম্রাট এবং তিনি বাংলাকে একটি সর্বভারতীয় সাম্রাজ্যে পরিণত করেন।

রাজ্যজয়:

হর্ষবর্ধনের মৃত্যুতে উত্তর ভারতে রাজনৈতিক শূন্যতা দেখা দিলে তিনটি শক্তি আর্যাবর্তে প্রাধান্য স্থাপনের জন্য সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়। এই তিনটি শক্তি হল বাংলার পাল বংশ, মালবের গুর্জর-প্রতিহার বংশ এবং দাক্ষিণাত্যের রাষ্ট্রকূট বংশ। গাঙ্গেয় উপত্যকা ও হর্ষের স্মৃতিবিজড়িত কনৌজ দখলই ছিল এই তিনটি শক্তির উদ্দেশ্য। তিনটি শক্তির মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ‘ত্রিশক্তির যুদ্ধ’ নামে পরিচিত। প্রতিহার ও রাষ্ট্রকূট শক্তির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ধর্মপাল আর্যাবর্তের এক বিস্তীর্ণ স্থানে নিজ আধিপত্য বিস্তার করেন। 

কনৌজ তাঁর অধিকারে আসে, কনৌজের সিংহাসন থেকে ইন্দ্ৰায়ুধ-কে বিতাড়িত করে তিনি নিজ মনোনীত প্রার্থী চক্ৰায়ুধ-কে সিংহাসনে বসান। মুঙ্গের তাম্রপট থেকে জানা যায় যে, তিনি কনৌজ অতিক্রম করে কেদার ও গোকর্ণ দখল করেন। কেদার ও গোকর্ণ বলতে যথাক্রমে গাড়োয়াল ও নেপালকে বোঝায়। তাঁর সকল অভিযান শেষে তিনি কনৌজে একটি দরবারের অনুষ্ঠান করেন এবং দরবারে উপস্থিত রাজন্যবর্গ তাঁর বশ্যতা স্বীকার করেন।

শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক উন্নতি:

ধর্মপালের রাজত্বকাল বাংলার ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। কেবলমাত্র বাংলার অভ্যন্তরে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করাই নয়—আর্যাবর্তের এক ব্যাপকস্থানে তিনি বাংলার আধিপত্য স্থাপন করেন। ঐতিহাসিক ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদার-এর মতে, ধর্মপালের রাজত্বকাল “বাঙালীর জীবনপ্রভাত”। তাঁর আমলে শিক্ষা-সংস্কৃতির প্রভূত উন্নতি পরিলক্ষিত হয়। তিনি মগধে বিক্রমশীলা মহাবিহার, ওদন্তপুরী বিহার ও সোমপুরী বিহার স্থাপন করেন। এইসব বিহারে বৌদ্ধ বিদ্যাচর্চা হত। তিনি বৌদ্ধধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। একটি তাম্রপটে তাঁকে ‘পরম-সৌগত’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। অন্য ধর্মের প্রতি তিনি সহনশীল ছিলেন। গর্গ নামে জনৈক ব্রাহ্মণ তাঁর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। 


তথ্য সূত্র:

১. স্বদেশ পরিচয় - জীবন মুখোপাধ্যায়।




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close