ওয়াভেল পরিকল্পনা কী | ওয়াভেল পরিকল্পনার উদ্দেশ্য কী ছিল

 


ওয়াভেল পরিকল্পনা কী | ওয়াভেল পরিকল্পনার উদ্দেশ্য কী ছিল | What is Wavell Plan


১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে জার্মানির পতনে ইওরোপে যুদ্ধের অবসান ঘটে, কিন্তু এশিয়ায় জাপানের বিরুদ্ধে তখনও যুদ্ধ চলছিল। সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে ভারতে তখন অচলাবস্তা চলছে। ভারতের সামরিক গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে সরকার ভারতের সঙ্গে বোঝাপড়ায় ইচ্ছুক ছিলেন। এই উদ্দেশ্যে, ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ১৪ই জুন বড়লাট ওয়াভেল কংগ্রেস ও লীগের কাছে একটি পরিকল্পনা পেশ করেন। এটি ‘ওয়াভেল পরিকল্পনা’ নামে পরিচিত। 


এতে বলা হয় যে—

১. শীঘ্রই সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর ও সংবিধান রচনার কাজ শুরু করবেন।

২. নতুন সংবিধান রচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারতীয়দের নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হবে। 

৩. বড়লাটের কার্যনির্বাহক সমিতি পুনর্গঠিত হবে এবং ওতে একমাত্র বড়লাট ও প্রধান সেনাপতি ব্যতীত সকল সদস্যই ভারতীয় হবেন। 

৪. কার্যনির্বাহক সমিতিতে বর্ণ হিন্দু ও মুসলিমদের অনুপাত হবে সমান সমান।  

৫. ভারতের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব যতদিন ব্রিটিশ সরকারের কাছে ন্যস্ত থাকবে, ততদিন সামরিক দপ্তরও ব্রিটিশ সরকারের হাতে থাকবে।  


এই বিষয়গুলি আলোচনার জন্য লর্ড ওয়াভেল সিমলায় এক সর্বদলীয় বৈঠক আহ্বান করেন এবং এই মর্মে ১৫ই জুন কংগ্রেস কার্যনির্বাহক সমিতির বন্দী সদস্যদের মুক্তি দেওয়া হয়। এই বৈঠকে জিন্না ‘পাকিস্তান’-এর দাবীতে অটল ছিলেন। এছাড়া, তিনি দাবী করেন যে, বড়লাটের কার্যনির্বাহক সমিতিতে নিযুক্ত মুসলিম সদস্যরা একমাত্র লীগ কর্তৃক মনোনীত হবে। কংগ্রস-এর পক্ষে এ দাবী মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না। ফলে জিন্নার জেদে সিমলা বৈঠক ব্যর্থ হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close