লাহোর প্রস্তাব কী | লাহোর প্রস্তাবের মূল বক্তব্য কী ছিল

 


লাহোর প্রস্তাব কী | লাহোর প্রস্তাবের বক্তব্য | Lahore Resolution


ভূমিকা:

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কালে ভারতীয় রাজনীতি যখন জটিল রূপ ধারণ করেছে, সেই অবস্থার পূর্ণ সুযোগ নিয়ে ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে জিন্না ও মুসলিম লীগ দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতে একটি পৃথক মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের দাবী জানান। 


লাহোর প্রস্তাব:

১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের ২০শে মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনে বাংলার প্রধানমন্ত্রী আবুল কাশেম ফজলুল হক বিখ্যাত ‘লাহোর প্রস্তাব’ উত্থাপন করেন। তিনি বলেন যে, ভারতে হিন্দু-মুসলিম দু’টি জাতি আছে—দু’টি সম্প্রদায় নয়। জাতি হিসেবে তিনি মুসলিমদের জন্য একটি পৃথক সার্বভৌম রাষ্ট্রের দাবী করেন। উত্তর প্রদেশের বিখ্যাত মুসলিম লীগ নেতা চৌধুরী খালিকুজ্জমান এই প্রস্তাবটি সমর্থন করেন। সভাপতির ভাষণে জিন্না হিন্দু-প্রধান সরকারের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ‘হিন্দু রাজ’ (Hindu Raj) বলে অভিহিত করেন এবং ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চলগুলির জন্য স্বতন্ত্র ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের দাবী জানান।


লাহোর প্রস্তাবের মূল বক্তব্য:

মুসলিম লীগের পৃথক রাষ্ট্রের দাবী সাম্প্রদায়িকতা ও ব্রিটিশ সরকারের প্রতিক্রিয়াশীল মনোভাবে ইন্ধন জোগায়। মুসলিম সমাজের এক শ্রেণীর মানুষের মধ্যে হিন্দু-বিদ্বেষ তীব্রতর হয়ে ওঠে এবং এরপর থেকে জিন্না প্রায়ই বলতে থাকেন যে, ভারতীয় সমস্যার একমাত্র সমাধান হল ভারত বিভাগ।


এ প্রসঙ্গে স্মরণীয় যে, ভূখণ্ড, ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক-পরম্পরা নিয়ে গঠিত জাতিচেতনা এবং মুসলিম লীগের জাতি-চেতনা এক নয়। ভাষা-সংস্কৃতিভিত্তিক জাতি-চেতনার বিকাশ স্বাভাবিক ও ঐতিহাসিক—ধর্মভিত্তিক ‘দ্বি-জাতিতত্ত্বের’ দাবী অস্বাভাবিক ও বিভেদমূলক। এই প্রসঙ্গে আরও উল্লেখ্য যে, ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের লাহোর অধিবেশনে উত্থাপিত পৃথক রাষ্ট্রের এই প্রস্তাবটি ‘লাহোর প্রস্তাব’ নামেই পরিচিত এবং এই অধিবেশনের কার্যবিবরণীতেও তা ‘লাহোর প্রস্তাব' হিসেবেই উল্লিখিত আছে। এই প্রস্তাবের কোথাও ‘পাকিস্তান’ শব্দের উল্লেখ নেই—যদিও পরবর্তীকালে এই প্রস্তাবটি ‘পাকিস্তান প্রস্তাব' নামেই পরিচিত হয়।  


তথ্য সূত্র:

স্বদেশ পরিচয় | জীবন মুখোপাধ্যায়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close