হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনার বিবরণ | হরূপা সভ্যতার নগরজীবনের ওপর একটি টীকা | Class 11 History Suggestion


হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনা | একাদশ শ্রেণী ইতিহাস সাজেশন | একাদশ শ্রেণী ইতিহাস বড় প্রশ্ন উত্তর | West Bengal Class 11 History Suggestion


ভূমিকা:

ভারতবর্ষের প্রাচীন সভ্যতাগুলির মধ্যে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য ছিল হরপ্পা সভ্যতা। মূলত সিন্ধু ও তার উপনদীকে কেন্দ্র করে হরপ্পা সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। সেইজন্য হরপ্পা সভ্যতাকে সিন্ধু সভ্যতা বলেও অভিহিত করা হয়। হরপ্পা সভ্যতা ছিল একটি পরিকল্পিত নগর সভ্যতা। এই সভ্যতার নগর পরিকল্পনা ছিল বেশ উন্নত 


হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনা 


১. নগরের বিন্যাস:

হরপ্পা সভ্যতার নগরের দুটি স্তর ছিল। - a. আক্রোপলিস বা দুর্গনগরী। এটি শুকনো কাদামাটির তৈরি ইটের পাটাতনের উপর নির্মিত। b. 'দীর্ঘতর নিম্নশহর' এখানে সারবন্দি গৃহের জন্য পাটাতন নির্মিত হয়েছে। এই পাটাতনের উচ্চতা ছিল ১০ মিটার উঁচু।


২. বাড়িঘর:

হরপ্পা সভ্যতার বাড়িগুলি পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছিল। রাস্তার দুই পাশে একতলা থেকে শুরু করে তিনতলা বিশিষ্ট বাড়িঘর ছিল। বাড়িগুলি আগুনে পোড়া ইট বা রোদে শুকনো ইট দিয়ে তৈরি ছিল। সমস্ত বাড়িগুলিতে প্রবেশের জন্য একটি করে দরজা ছিল। গলির রাস্তার বাড়িগুলোতে জানালাও ছিল। জানালাগুলি এমনভাবে তৈরি ছিল যাতে বাড়িতে হাওয়া বাতাস চলাচল করতে পারে। প্রতিটি গৃহে স্নানাগার, রান্নাঘর, বাগান এবং শৌচাগারের ব্যাবস্থাও ছিল।


৩. রাস্তাঘাট:

হরপ্পার রাস্তাঘাট ছিল বেশ উন্নত। রাস্তাগুলি ৯ ফুট থেকে ৩৪ ফুট পর্যন্ত চওড়া ছিল। রাস্তাগুলি নির্মিত ছিল পোড়া ইট, পাথর এবং চুন সুরকি দিয়ে। প্রতিটি রাস্তার দুই ধারে ডাস্টবিন, ফুটপাত এবং ম্যানহোলের ব্যাবস্থা ছিল। রাস্তাগুলি পূর্ব থেকে পশ্চিমে এবং উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তৃত ছিল।


৪. স্নানাগার:

মহেন-জো-দারোতে স্নানাগারের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। এই স্নানাগারটির দৈর্ঘ্য ছিল ১৮০×১৮০ ফুট ও এর মধ্যে থাকা জলাশয়টির দৈর্ঘ্য ছিল ৩৯ ফুট, প্রস্থ ২৩ ফুট, গভীরতা ছিল ৮ ফুট। স্নানাগারে মানুষ যাতে নামতে পারে তার জন্য সিড়ির ব্যাবস্থা ছিল। শুধু তাই নয় মানুষের পোশাক পরিবর্তনেরও একটি ঘর ছিল।


৫. পয়ঃপ্রণালী:

হরপ্পা সভ্যতায় জলনিকাশির জন্য উন্নত ব্যাবস্থা ছিল। এখানে উন্নত পয়ঃপ্রণালীর সন্ধান পাওয়া গেছে। রাস্তার পাশের নর্মদাগুলি পরিষ্কার থেকে শুরু করে সেগুলি ঢাকা দেওয়ারও ব্যাবস্থা ছিল।  


৬. শস্যাগার:

হরপ্পা সভ্যতার প্রায় প্রত্যেক নগর গুলোতেই শস্যাগার ছিল। হরপ্পা একটি বিশাল শস্যগোলা আবিষ্কৃত হয়েছে। এর আয়তন ছিল প্রায় ১৬৯×১৩৫ বর্গফুট। ঐতিহাসিক ব্যাসাম এই শস্যাগারকে বর্তমানের রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এখানে জরুরীকালীন পরিস্থিতির জন্য খাদ্যদ্রব্য মজুত থাকত।


মূল্যায়ন:

ভারত তথা বিশ্বের প্রাচীন সভ্যতাগুলোর মধ্যে হরপ্পা ছিল এক বিস্ময়কর সভ্যতা। এই সভ্যতার মানুষের জীবনযাপন ও নগর পরিকল্পনা ছিল যে ছিল বেশ উন্নত তা বিভিন্ন ঐতিহাসিকদের বিবরণী ও মন্তব্যে অনুমান করা যায়।


তথ্য সূত্র:

১. উচ্চমাধ্যমিক ইতিহাস সহায়িকা 

দাস | পাহাড়ি - Talent Booster

২. প্রান্তিক উচ্চমাধ্যমিক ইতিহাস সহায়িকা | সম্পাদনায় শ্রী দেবাশীষ মৌলিক


 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close