প্রাচীন মিশরে নেফারতিতি ও ক্লিওপেট্রার কার্যাবলী | একাদশ শ্রেণী ইতিহাস সাজেশন



একাদশ শ্রেণী ইতিহাস বড় প্রশ্ন উত্তর | Class 11 History Suggestion 


ভূমিকা:

মিশরের সভ্যতার রাজনৈতিক ইতিহাসের দুজন উল্লেখযোগ্য নারী ছিলেন নেফারতিতি ও ক্লিওপেট্রা। মিশরের রাজ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এই দুজন নারীর অবদান ছিল অসামান্য। 


নেফারতিতি: 

খ্রিস্টপূর্ব চতুর্দশ শতাব্দীতে আফ্রিকা মহাদেশের অন্যতম মহিলা চরিত্র ছিলেন মিশরের রানি নেফারতিতি। তিনি ছিলেন মিশরের রাজা আখেনাটনের স্ত্রী। ধর্মান্তরের আগে আখেনাটনের নাম ছিল চতুর্থ আমেনহোটেপ। আখেনাটনের নতুন ধর্মের উদ্ভব ও বিকাশের ক্ষেত্রে নেফারতিতির ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।


নেফারতিতির খ্যাতি: 

নেফারতিতি খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে ছিলেন আনুমানিক 1370 খ্রিস্টপূর্ব থেকে 1330 খ্রিস্টপূর্ব মধ্যবর্তী সময়ে। তিনি ছিলেন মিশরীয় প্রশাসনের প্রথম মহিলা বা First lady। মিশরের ধর্মীয় জীবনে এই সময়ে বিরাট পরিবর্তন আসে। এই পরিবর্তনের অন্যতম কৃতিত্ব ছিল নেফারতিতির।


রাজকীয় কতৃত্ব: 

নেফারতিতির স্বামী চতুর্থ আমেনহোটেপ রাষ্ট্র পরিচালনা, শিকার, যুদ্ধবিগ্রহ অপেক্ষা ধর্মাচরণের ক্ষেত্রে বেশি মনোযোগ দেন। এই অবস্থায় নেফারতিতি অঘোষিত রাষ্ট্র প্রতিরূপে মিশরের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পরিচালনা করেন।


আইন-শৃঙ্খলা:

মিশরের রাজা আমেনহোটেপ দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগের ব্যাপারে যখন উদাসীন তখন তাঁর স্ত্রী নেফারতিতি তাঁর স্বামীর দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন। মিশরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় তাই নেফারতিতির অবদান অনস্বীকার্য।


পরিশেষে বলা যায়, নেফারতিতি সম্পর্কে লিখিত কোনো তথ্য পাওয়া মুশকিল। বিভিন্ন মন্দির, স্তম্ভ ইত্যাদির গায়ে খোদাই করা মূর্তির মাধ্যমে যে সকল দৃশ্য বর্ণনা করা হয়েছে তা থেকেই তাঁর জীবনের অনেক কথা জানা যায়।



ক্লিওপেট্রার কার্যাবলী

মিশরের আর একজন উল্লেখযোগ্য নারী ছিলেন ক্লিওপেট্রা। গ্রিক টলেমি বংশীয় ক্লিওপেট্রা ইতিহাসে ‘ক্লিওপেট্রা’ নামেই সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ছিলেন। টলেমি বংশীয়রা মিশরীয় ভাষার পরিবর্তে গ্রিক ভাষা ব্যবহার করার পক্ষপাতি ছিলেন। কিন্তু ক্লিওপেট্রা শাসনভার গ্রহণের পর মিশরীয় ভাষাশিক্ষা করে স্থানীয় ভাষার ব্যবহার শুরু করেন।


প্রশাসনেক সংহতি:

ক্লিওপেট্রা গ্রিক টলেমি বংশধর হলেও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সংহতি বজায় রেখেছিলেন। তিনি সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন ও প্রাচীন মিশরীয় ধর্মের রীতিনীতি প্রবর্তনের মাধ্যমে মিশরবাসীর আস্থা অর্জন করেন। এর পাশাপাশি মিশরের ধর্ম, সাংস্কৃতিক, প্রশাসনিক সর্বক্ষেত্রে সংহতি বজায় রাখেন।


ক্ষমতাচ্যুতি: 

খ্রিস্টপূর্ব 51 অব্দে সহশাসক টলেমির সঙ্গে ক্লিওপেট্রার মতবিরোধ ঘটে। ক্লিওপেট্রা সরকারি নথিপত্র থেকে টলেমির নাম বাদ দেন। মুদ্রায় কেবল ক্লিওপেট্রার একক ছবি খোদিত হয়। কিন্তু একজন নারীর শাসন মিশরীয় ঐতিহ্যের বিরোধী ছিল। ফলে তাঁর জনসমর্থন ক্ষুণ্ন হয়। টলেমি মিশরীয় ক্ষমতা দখল করে আর ক্লিওপেট্রা ক্ষমতাচ্যুত হয়।


জুলিয়াস সিজারের সঙ্গে যোগাযোগ: 

ক্লিওপেট্রা যখন ক্ষমতাচ্যুত হয় তখন রোমের গৃহযুদ্ধ চরম আকার ধারণ করে। সিজারের প্রতিপক্ষ পম্পি পরাজিত অবস্থায় মিশরের টলেমির কাছে আশ্রয়প্রার্থী হন। টলেমি আশ্রয় দেন। দু-দিন পরে স্বয়ং সিজার মিশরে উপস্থিত হলে তাঁকে সন্তুষ্ট করার জন্য পম্পিকে হত্যা করে তার কাটা মুণ্ডু সিজারকে উপহার দেয়। সিজার টলেমির কর্মে ক্ষুব্ধ হয়ে মিশর দখল করলে ক্লিওপেট্রা তখন সিজারকে বিবাহ করে ক্ষমতালাভ করে।


মার্ক অ্যান্টনির সঙ্গে বিবাহ: 

সিজারের প্রথম লেফটেন্যান্ট মার্ক অ্যান্টনি 42 খ্রিস্টপূর্ব পূর্বাভিমুখী অভিযানকালে ক্লিওপেট্রার মিশরীয় প্রজাদের ওপর কর আরোপে সচেষ্ট হন। এই পরিস্থিতিতে ক্লিওপেট্রা প্রকাশ্য সংঘর্ষের পরিবর্তে তাঁর রূপ ও যৌবনকে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। শেষ পর্যন্ত 37 খ্রিস্টপূর্ব নাগাদ ক্লিওপেট্রা ও মার্ক অ্যান্টনির মধ্যে বিবাহ সম্পন্ন হয়।


উপসংহার: 

পরিশেষে বলা যায় যে অ্যান্টনি ও অক্টাভিয়ানের সম্পর্কে ভাঙন ধরেছিল। খ্রিস্টপূর্ব 33 অব্দে বিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়। অক্টাভিয়ান মিশরের বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা করেন। যুদ্ধে অ্যান্টনি পরাজিত হন। ক্লিওপেট্রা আসপ নামক মিশরীয় কোবরার ছোবল খেয়ে আত্মহত্যা করেন 30 খ্রিস্টপূর্ব।


তথ্য সূত্র:

উচ্চমাধ্যমিক ইতিহাস সহায়িকা 

দাস | পাহাড়ি - Talent Booster


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close