ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি আলোচনা করো | উচ্চমাধ্যমিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন | HS Political Science Suggestion


ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি | রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া | রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কিভাবে হয় | দ্বাদশ শ্রেণী রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন 


ভূমিকা:

গ্রেট ব্রিটেনের অনুকরণে ভারতে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ফলে ভারতের রাষ্ট্রপ হলেন একজন নামসর্বস্ব শাসক। অবশ্য ভারতীয় রাষ্ট্রপতি ব্রিটেনের রাজা বা রানির মতো উত্তরাধিক সূত্রে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন না। তিনি পরোক্ষভাবে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হন।


ভারতীয় রাষ্ট্রপতির যোগ্যতা: 

ভারতীয় সংবিধানের 54নং এবং 55নং ধারায় রাষ্ট্রপতি নিয়োগ সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিপদে প্রার্থী হতে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কয়েকটি যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন। যেমন—


১. রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীকে ভারতীয় নাগরিক হতে হবে। 

২ প্রার্থীকে অন্তত 35 বছর বয়স্ক হতে হবে।

৩. প্রার্থীর লোকসভায় নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। 

৪. প্রার্থীর সরকারি চাকরি অথবা কোনো লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকা চলবে না। 


ভারতীয় রাষ্ট্রপতির নির্বাচক সংস্থা ও নির্বাচন পদ্ধতি:

সংবিধান অনুযায়ী—রাষ্ট্রপতি এক নির্বাচনি সংস্থা (electoral college) দ্বারা একক-হস্তান্তরযোগ্য সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তি নির্বাচিত হবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচক সংস্থাটি সংসদের উভয়কক্ষের নির্বাচিত সদস্য এ রাজ্য বিধানসভার নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে গঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য রাজ্য বিধানসভার সদস্য সংসদের উভয়কক্ষের সদস্যদের অনুরূপ সংখ্যক ভোটদানের অধিকারী।


রাষ্ট্রপতির নির্বাচন পদ্ধতির তিনটি পর্যায়: 


১. বিধায়কদের ভোটমূল্য: 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য একটি অঙ্গরাজ্যের বিধানসভার নির্বাচিত প্রতিনিধির ভোটসংখ্যা নির্ণয় করা হয়। এই সংখ্যা নির্ণয়ের জন্য প্রথমে রাজ্যের মোট জনসংখ্যাকে সেই রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচিত সদস্য দিয়ে ভাগ করতে হয়। এরপর যে ভাগফল পাওয়া যায়, তাকে 1,000 দিয়ে ভাগ করতে হয়। যে সংখ্যা পাওয়া যায়, তা হল ওই রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচিত প্রতিটি সদস্যের ভোটসংখ্যা বা ভোটমূল্য। অবশ্য যদি ভাগশেষ 500 বা তার অধিক হয়, তাহলে ভাগফলের সঙ্গে 1 যোগ হবে অর্থাৎ, সদস্যদের ভোটের সংখ্যা বা মূল্য 1 বৃদ্ধি পাবে। এর অর্থ—ওই রাজ্য বিধানসভার সদস্য একটি ভোটপত্রে ভোট দিলেও তাঁর ভোটমূল্য = 151।


২. সাংসদদের ভোটমূল্য: 

সংসদের উভয়কক্ষের একজন নির্বাচিত সদস্যের ভোটসংখ্যা নির্ণয়ের জন্য সমস্ত রাজ্য বিধানসভার সদস্যদের ভোটসংখ্যাকে সংসদের উভয় কক্ষের নির্বাচিত প্রতিনিধির সংখ্যা দিয়ে ভাগ করতে হয়। এই ভাগফল দ্বারা যে সংখ্যা পাওয়া যায়, তা হল সংসদের নির্বাচিত সদস্যের ভোটমূল্য।


৩. ভোটদান: 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতির তৃতীয় পর্যায় হল ভোটদান। ভোটদানের ক্ষেত্রে একক হস্তান্তরযোগ্য সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এই নীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদের জন্য যতজন প্রার্থী থাকবেন, প্রত্যেক ভোটদাতা সকলকেই পছন্দ করতে পারেন। প্রত্যেক ভোটদাতা প্রার্থীর নামের পাশে 1, 2, 3 ইত্যাদি সংখ্যা লিখে তাঁর পছন্দ প্রকাশ করেন। অবশ্য প্রত্যেক ভোটদাতাকে প্রথম পছন্দ জানাতেই হবে; নতুবা তাঁর ভোটপত্র বাতিল হয়ে যাবে। এইভাবে ভোটগ্রহণের পর সমস্ত প্রার্থীর প্রথম পছন্দের ভোটগুলি যোগ করা হয়। এরপর সেই যোগফলকে 2 দিয়ে ভাগ করে ভাগফলের সঙ্গে 1 যোগ করলে যে সংখ্যা পাওয়া যায়, তাকে কোটা বলে।  


কোটা নির্ণয়: 

রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হতে হলে প্রার্থীকে কোটা সংখ্যক প্রথম পছন্দের পেতে হয়। যদি কোনো প্রার্থী কোটাসংখ্যক প্রথম পছন্দের ভোট না পান, তাহলে যিনি সর্বাপেক্ষা সংখ্যক প্রথম পছন্দের ভোট পেয়েছেন, তাঁকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বাদ দেওয়া হয়; কিন্তু তাঁর ভোটপত্রে পছন্দের ভোটগুলি অন্যান্য প্রার্থীদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এইভাবে যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো প্রার্থী কোটা লাভ করতে পারছেন না, ততক্ষণ পর্যন্ত প্রার্থী বাদ ও ভোটপত্রের হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলতে থাকে।


তথ্য সূত্র- 

উচ্চ মাধ্যমিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান সহায়িকা (ড. চন্ডীদাস মুখোপাধ্যায়)

talent Booster



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close