উদারনিতীবাদের মূল বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো | উদারনিতীবাদের মূল সূত্র | উচ্চমাধ্যমিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন

 


উদারনিতীবাদের সংজ্ঞা দাও | উদারনিতীবাদের মূল বৈশিষ্ট্য | দ্বাদশ শ্রেণী রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন | HS Political Science Suggestion


ভূমিকা:

উদারনীতিবাদ একটি গতিশীল ধারণা। এর নির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া সম্ভব নয়। উদারনীতিবাদী দর্শন জন্মলগ্ন থেকেই নিজেকে ক্রমাগত পরিবর্তিত করে চলেছে। পুরোনো ধ্যানধারণা বর্জন করে নিজেকে সে ক্রমাগত শোধন করেছে, পরিবর্ধন করেছে, বিকশিত করেছে। নতুন নতুন ধারণাকে গ্রহণ করে সে নিজেকে সজীব রেখেছে। জন লক্ প্রবর্তিত উদারনীতিবাদের সঙ্গে আধুনিককালের জনকল্যাণকর উদারনীতিবাদের গভীর পার্থক্য আছে। আবার নয়া উদারনীতিবাদে মুক্ত বাজার ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়ায় উদারনীতিবাদ পুরোনো জায়গায় ফিরে গেছে। তবে উদারনীতিবাদের এই বহুত্ববাদী চিন্তাধারার মধ্যেও কতকগুলি বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে।


উদারনীতিবাদের সংজ্ঞা: 

উদারনীতিবাদ সব রকমের কর্তৃত্বের বিরোধিতা এবং ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মর্যাদার ওপর গুরুত্ব দান করে। স্বাধীন চিন্তাই এর মর্মবস্তু। উদারনীতিবাদ ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, মানবিক অধিকার ও মর্যাদা এবং মানবিক সুখের ওপর গুরুত্ব দেয়। ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশ ও মর্যাদাই উদারনীতিবাদের কাম্যবস্তু। সমাজ এখানে প্রাসঙ্গিক, কিন্তু ব্যক্তিই সমাজের একক। উদারনীতিবাদ একটি ধারণা, একটি দৃষ্টিভঙ্গি, একটি দর্শন, একটি আন্দোলন, একটি বিশ্বাস। এটি একটি মতাদর্শ, যার কেন্দ্রে রয়েছে ব্যক্তির স্বাধীনতা, মূল্য এবং মর্যাদা। এটি হল স্বাধীনতার প্রতি দায়বদ্ধ একটি পদ্ধতি এবং সরকারের একটি কর্মসূচি, সমাজকে সংগঠিত করার একটি নীতি, ব্যক্তি এবং সম্প্রদায়ের জীবন প্রণালীর একটি পথ। অন্য ভাষায়, এটি হল মুক্তজীবনের কণ্ঠস্বর যেখানে স্বাধীনতাই হবে সর্বোত্তম নীতি, যেখানে ব্যক্তি নিজেকে প্রকাশ করবে, আলোচনা করবে এবং সংগঠিত হবে।


উদারনীতিনাদের নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করা যেতে পারে- 


১. উদারনীতিবাদ মানবিক ব্যক্তিত্ব এবং প্রত্যেকটি মানুষের সমতার মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেয়। 


২. এই মতবাদ ব্যক্তির স্বাধীন চিন্তা ও ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।


৩. মানুষের শুভবোধ ও প্রয়োজনীয় যৌক্তিকতায় উদারনীতিবাদ বিশ্বাস করে। 


৪. এই মতবাদ ব্যক্তির অপরিহার্য ও অবিচ্ছিন্ন কতকগুলি অধিকারে বিশ্বাস করে। এই অধিকারগুলি হল—জীবনের অধিকার, স্বাধীনতার অধিকার ও সম্পত্তির অধিকার।


৫. এই মতবাদ মনে করে যে, রাষ্ট্র পারস্পরিক সম্মতির মাধ্যমে উদ্ভূত হয়েছে এবং সেদিক থেকে রাষ্ট্র হল মানুষের সৃষ্টি একটি যন্ত্রের মতো।


৬. ব্যক্তির সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক চুক্তিভিত্তিক। অর্থাৎ, রাষ্ট্র বা সরকার যদি চুক্তিভঙ্গ করে, তাহলে ব্যক্তি তার বিরোধিতা করতে পারে।


৭. সামাজিক ক্ষেত্রে আইনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, বল প্রয়োগের মাধ্যমে নয়।


৮. রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, বৌদ্ধিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে ব্যক্তি স্বাধীন থাকবে। 


৯. রাষ্ট্রীয় আইন স্বাধীনতার সংকোচন করে। তাই উদারনীতিবাদ সীমিত সরকারের কথা বলে।


১০. অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উদারনীতিবাদ স্বাচ্ছন্দ্যনীতি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগের সমর্থক।


১১. আন্তর্জাতিক স্বাধীনতা, যেমন—বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রভৃতিকে উদারনীতিবাদ সমর্থন করে।


অতএব, বলা যায় উদারনীতিবাদ জীবনের একটি বিশেষ দৃষ্টিকোণ বা মতাদর্শ যা সন্দেহবাদী ও সন্দেহ নিরসনবাদী, সমালোচনামূলক ও সমন্বয়বাদী, পরীক্ষামূলক, যুক্তিপূর্ণ ও নতুন ভাবনাচিন্তা গ্রহণে সর্বদা আগ্রহী। রাজনৈতিক স্বাধীনতা, সামাজিক সাম্য, সাংবিধানিকতা ও বহুত্ববাদ হল এর নির্যাস এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এর লক্ষ্য। ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই উদারনীতিবাদের মূল উদ্দেশ্য।


তথ্য সূত্র- 

উচ্চ মাধ্যমিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান সহায়িকা (ড. চন্ডীদাস মুখোপাধ্যায়)

talent Booster 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close