ভারতে অসম জনবণ্টনের তারতম্যের কারণ | জনসংখ্যার তারতম্যের কারণ | মাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন


ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের জনসংখ্যা তারতম্যের কারণ | ভারতের জনঘনত্বের তারতম্যের কারণ 

জনসংখ্যার বিচারে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম। আরে সুবিশাল দেশের জনসংখ্যা ভারতের সর্বত্র সমানভাবে ছড়িয়ে নেই। ভারতের অঞ্চল বিশেষে জন বন্টনের এই তারতম্যের প্রাকৃতিক ও প্রাকৃতিক কারণ লক্ষ্য করা যায়। সেগুলো হলো-

১. ভূপ্রাকৃতিক অবস্থা (Physiographic Condition) : 
উত্তরের হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল, উত্তর পূর্বের পাহাড়ি ও মালভূ মি অঞ্চল এবং দক্ষিণ ভারতের বিস্তীর্ণ মালভূমি ও পাহাড়ি অঞ্চলের উঁচু নীচু বন্ধুর ভূমি কৃষিকাজের অনুপযুক্ত ও কিছু কিছু অঞ্চল দুর্গম বলে এখানে জনসংখ্যা বেশ কম। অন্যদিকে উত্তরের সিন্ধু, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র সমভূমি অঞ্চল, ও উপকূলের সমভূমি কৃষিকাজের ও বাসস্থান নির্মাণের, যোগাযোগ ব্যবস্থার পক্ষে ভালো বলে এখানে জনসংখ্যা অনেক বেশি।

২. জলবায়ুর বৈচিত্র্য (Climatic Variation) : 
সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে সমভাবাপন্ন জলবায়ুর উপস্থিতি বৃষ্টিপাতের সমান বণ্টনের জন্য এখানে লোকবসতি ঘন। অপরদিকে, রাজস্থানের মরু অঞ্চল বা গুজরাটের কচ্ছ অঞ্চলে চরমভাবাপন্ন জলবায়ু ও বৃষ্টিপাতের অসম বণ্টনের জন্য জনসংখ্যা কম।

৩. নদনদী (Rivers) : 
নদনদীর অবস্থানের জন্য : (১) যোগাযোগ ও পরিবহণ ব্যবস্থার সুবিধা ও (২) নদী তীরবর্তী অঞ্চলের পলি সমৃদ্ধ উর্বর মৃত্তিকায় কৃষিকাজে সুবিধা (৩) জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, (৪) জলসেচ ও জলনিকাশি ব্যবস্থার সুবিধা আছে বলে, উত্তর ভারতের গঙ্গা, সিন্ধু, ব্রহ্মপুত্র ও দক্ষিণ ভারতের মহানদী, গোদাবরী, কৃষ্ণা, কাবেরী নদী উপত্যকায় লোকবসতি বেশি।

৪. মৃত্তিকা (Soil) : 
উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের নদী তীরবর্তী উর্বর মৃত্তিকা ও দাক্ষিণাত্যের উর্বর কৃয় মৃত্তিকা কৃষিকাজের পক্ষে উপযুক্ত বলে এই সকল অঞ্চলে লোকবসতি ঘন।

৫. স্বাভাবিক উদ্ভিদ (Natural Vegetation) : 
বৃক্ষহীন মরুভূমি (যেমন—রাজস্থানের মরু অঞ্চল) অথবা গভীর অরণ্য সংকুল অঞ্চল (যেমন—সুন্দরবন, হিমালয় ও পশ্চিমঘাট পর্বতের পাদদেশ, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের বনভূমি অঞ্চল) মানুষের জীবিকানির্বাহের পক্ষে অসুবিধাজনক বলে এইসব অঞ্চল ঘনবসতিপূর্ণ নয়।

৬. খনিজ সম্পদ (Mineral resources) : 
প্রতিকূল জলবায়ু ও অনুর্বর মৃত্তিকা থাকা সত্ত্বেও যেখানে খনিজ সম্পদের প্রাচুর্য দেখা যায়, সেখানে ভূপ্রকৃতি দুর্গম হলেও জীবিকা নির্বাহের সুবিধা থাকায় জনসংখ্যা বেশি হয়। ভারতের বিভিন্ন কয়লাখনি অঞ্চলে (রানিগঞ্জ ও ঝরিয়া) এইজন্য জনসংখ্যা বেশি। ছোটোনাগপুর ও ছত্তিশগড় মালভূমি অঞ্চলের বিভিন্ন খনি ও শিল্পাঞ্চলে এই একই কারণে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

তথ্য সূত্র: মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ সহায়িকা (সম্পাদনায়- শ্রীদেবাশীষ মৌলিক)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close