জার্মানিতে নাৎসিবাদের উত্থানের কারণ | নাৎসিবাদের উদ্ভবের প্রেক্ষাপট।

 


জার্মানিতে নাৎসিবাদের উত্থানের কারণ | নাৎসিবাদের উত্থানের পটভূমি | হিটলারের নেতৃত্বে নাৎসিবাদের উত্থান 


ভূমিকা :

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। জার্মানিতে ভাইমার প্রজাতান্ত্রিক সরকারের নেতৃত্বে উত্থান ঘটে নাৎসিবাদের। নাৎসিবাদের মূলনীতি ছিল উগ্র জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে জার্মানি থেকে গণতন্ত্রের ধ্বংস সাধন।


নাৎসিবাদের উত্থানের কারণ :


১. ভাইমার প্রজাতন্ত্রের ব্যর্থতা :

জার্মানিতে রাজতন্ত্রের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ভাইমার প্রজাতন্ত্র। কিন্তু এই প্রজাতান্ত্রিক সরকার ভার্সাই চুক্তির শর্তগুলি মেনে নেওয়ায় জার্মানরা ভাইমার প্রজাতন্ত্রের প্রতি আস্থা হারায়। এই সুযোগে হিটলার তাঁর নাৎসি দলের উত্থানের পথ তৈরি করেন।


২. অর্থনৈতিক সংকট :

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি আর্থিক দিক থেকে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মুদ্রাস্ফীতি ঘটে ও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম অত্যন্ত বৃদ্ধি পায়। প্রজাতান্ত্রিক সরকার এ সংকট মেটাতে ব্যর্থ হলে জার্মানিতে নাৎসি দলের উত্থান ঘটে।


৩. বিদেশ নীতির ব্যর্থতা :

জার্মান সরকারের বিদেশ নীতির উদ্দেশ্য ছিল সামরিক দিক থেকে জার্মানিকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করা এবং রাইন অঞ্চলকে পুনরায় জার্মানির অন্তর্ভুক্ত করা। কিন্তু প্রথম রাশিয়ার সঙ্গে র‍্যাপালো সন্ধিতে আবদ্ধ হলে জার্মান বিদেশ নীতির উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়। ফলে জার্মানরা হয়। উত্থান ঘটে নাৎসিবাদের।


ইতালিতে ফ্যাসিবাদের উত্থানের কারণ- CLICK HERE


৪. বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকা :

জার্মানিতে কোনো একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের ক্ষমতা বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী ৯ বছরের মধ্যে অন্তত ১৫টি মন্ত্রীসভা ক্ষমতায় আসে। এই রাজনৈতিক সংকটের সুযোগ নেন হিটলার ও তাঁর নাৎসি দল।


৫. হিটলারের প্রভাব : 

হিটলারের ইহুদিবিদ্বেষ নীতি এবং জার্মান জাতির শ্রেষ্ঠত্বের প্রচার জার্মানদের সাংগঠনিক শক্তি, নেতৃত্বদানের দক্ষতা ও বাক্‌পটুতা নাৎসি দলের উত্থানে সাহায্য করে।


তথ্য সূত্র- ইতিহাস শিক্ষক (জে মুখোপাধ্যায়)



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close