রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা | Necessity of Studying Political Science


রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা | রাষ্ট্রবিজ্ঞান কেন পাঠ করা প্রয়োজন | একাদশ শ্রেণী রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন | Class 11 Political Science Suggestion


যে-কোনো সামাজিক বিজ্ঞান পাঠ করার উপযোগিতা সম্পর্কে অবহিত হওয়া দরকার। 

(১) রাষ্ট্রব্যবস্থা বিভিন্ন বিধিরীতির মাধ্যমে অগণিত মানুষের জীবন ও কর্ম নিয়ন্ত্রণ করে। তেমনি বিভিন্ন কার্যকলাপ রাষ্ট্রব্যবস্থার গতি-প্রকৃতি পরিবর্তনে প্রভাব বিস্তার করে। এই সমস্ত বিষয়ে কিছু সুসংহত বিজ্ঞানসম্মত চিন্তা-ভাবনা কতটা প্রয়োজনীয় তা আধুনিক যুগে সহজেই উপলব্ধি করা যায়। বর্তমানে রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও ক্রিয়াকলাপের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকলে বাস্তব জীবনের বাধা-বিঘ্নগুলি সম্পর্কে আগে থেকেই সজাগ হওয়া সম্ভব হয়। এখন সামাজিক জীবন ও রাষ্ট্রীয় জীবন ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। তার ফলে সামাজিক মানুষের পক্ষে রাষ্ট্র-রাজনীতি সংক্রান্ত জ্ঞান লাভ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।


(২) অন্য যে-কোনো জ্ঞান-শৃঙ্খলার মতোই রাষ্ট্রবিজ্ঞান চর্চার মাধ্যমে বিশেষীকৃত জ্ঞান সম্ভব। এর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। রাষ্ট্রব্যবস্থা ও রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে এই বিশেষ সামাজিক বিজ্ঞানটির উপযোগিতা বিরোধ-বিতর্কের ঊর্ধ্বে।


(৩) বর্তমানে মতাদর্শগত আলোচনা বিভিন্নভাবে অগণিত মানুষের জীবন ও কর্মকে প্রভাবিত করে চলেছে। সমাজতন্ত্রবাদ, সাম্যবাদ, গণতন্ত্র, গান্ধিবাদ, সর্বোদয় ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকারের যেসমস্ত মতাদর্শ রাষ্ট্র ও রাজনীতির কর্মপ্রবাহে প্রতিনিয়ত উপস্থাপিত হচ্ছে, তাদের যথাযথভাবে অনুধাবন করতে হলে রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না।


(৪) রাষ্ট্র-রাজনীতি নিয়ে যাঁরা চিন্তা-ভাবনা করেছেন তাঁরা প্রায় প্রত্যেকেই শাসক-শাসিতের সম্পর্ক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের বৈধতার প্রশ্ন নিয়ে কোনো-না-কোনো বক্তব্য পেশ করেছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে শাসন-ব্যবস্থার মৌলিক উপযোগিতা এবং তার কল্যাণমূলক ক্রিয়াকলাপভিত্তিক বৈধতার প্রশ্নটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসাবে আলোচিত হয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠ করলে রাষ্ট্রব্যবস্থা ও রাজনীতির যৌক্তিকতা এবং কল্যাণপ্রসূ দিকটি সম্পর্কে অবহিত হওয়া যায়।


(৫) দলীয় রাজনীতির মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক মানুষ বর্তমানে রাষ্ট্র-রাজনীতির কর্মপ্রবাহে জড়িয়ে পড়েছে। তার ফলে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের গুরুত্ব স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। 


(৬) মার্কসাদী লেখকদের মতানুসারে রাষ্ট্রব্যবস্থা হল মূলত শ্রেণিশাসন ও শোষণের যন্ত্র বিশেষ। আপামর জনসাধারণের কল্যাণসাধনে কোনো রাষ্ট্রব্যবস্থাই উপযুক্ত নয়। তাই এঁদের মতানুসারে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে এক বৈপ্লবিক চেতনা ও প্রবাহ আনা দরকার।

 এই বিপ্লবের সাহায্যে এই শোষণমূলক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা প্রয়োজন। এইভাবে শ্রেণিহীন ও শোষণহীন সাম্যবাদী সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। যেসমস্ত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এই বক্তব্য সমর্থন করেন না, তাঁরা রাষ্ট্রকে এক অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান বলে মনে করেন। তাঁদের মতে, রাষ্ট্রের মাধ্যমেই সমাজের কল্যাণসাধন সম্ভব। সমাজ ও রাষ্ট্র সম্পর্কে এরকম বিপরীত ধর্মী ধ্যান-ধারণা কেবল রাষ্ট্রবিজ্ঞান চর্চার মাধ্যমেই জানা যায়।



 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close