আধুনিক ভারতের ইতিহাসের উপাদানরূপে সরকারি নথিপত্রের গুরুত্ব | Madhyamik History Suggestion



ইতিহাসের উপাদান হিসেবে সরকারি নথিপত্রের গুরুত্ব | সরকারি নথিপত্র আধুনিক ইতিহাসচর্চায় কতটা মূল্যবান তথ্য পরিবেশন করে | দশম শ্রেণী ইতিহাস বড় প্রশ্ন উত্তর

ভূমিকা:
আধুনিক ভারতের ইতিহাসের উপাদানের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল বিভিন্ন সরকারি নথিপত্র। এই সরকারি নথিপত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল সরকারি প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বিভিন্ন পদাধিকারীদের প্রতিবেদন, ঘটনার বিবরণ চিঠিপত্র ইত্যাদি। এইসকল নথিপত্র তৎকালীন সময়ের ইতিহাস রচনায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারি প্রতিবেদন, ঘটনার বিবরণ:

সাধারণভাবে ব্রিটিশ শাসনের শুরু থেকে ভারতে আধুনিক যুগের সূচনা হয়েছে বলে ধরা হয়। স্বাভাবিকভাবে আধুনিক ভারতের ইতিহাস সম্পূর্ণভাবেই ব্রিটিশ আমলের ইতিহাস। আর এই আমলের যাবতীয় সরকারি নথিপত্র জাতীয় সংগ্রহশালাসহ সরকারি মহাফেজখানা এবং বিভিন্ন রাজ্যের সংগ্রহশালায় খুব যত্নের সঙ্গে রেখে দেওয়া আছে।

এই নথিপত্রগুলি সংরক্ষণ করার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলি প্রকাশ করার ব্যবস্থাও আছে। ইন্ডিয়ান হিস্টোরিক্যাল রেকর্ডস কমিশনসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও গবেষক এই নথিপত্রগুলি প্রকাশ করে চলেছেন।

প্রশাসনিক নথি:
সরকারি প্রশাসনের অন্যতম স্তম্ভ পুলিশ, গোয়েন্দা ও সরকারি আধিকারিকরা বিভিন্ন সময়ে সরকারকে গোপন প্রতিবেদন পাঠায়। এটা তাদের কাজের অঙ্গ। এই প্রতিবেদনগুলি থেকে বিভিন্ন জাতীয় গণ-আন্দোলন ও বিপ্লবী আন্দোলন সম্বন্ধে প্রচুর তথ্য পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, হোমরুল আন্দোলনের জনপ্রিয়তায় বিচলিত হয়ে স্বরাষ্ট্র দফতরের এক আধিকারিকের গোপন রিপোর্টের কথা। এই রিপোর্টে তিলক ও অ্যানি বেসান্তের প্রতি জনগণের গভীর বিশ্বাস যেমন প্রতিফলিত হয়, তেমনি দেশের জটিল পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকারকে অবহিত করা হয়।

এরূপ অসংখ্য প্রতিবেদন, বিবরণ ব্রিটিশ আমলে সরকারি আধিকারিকগণ পাঠিয়ে সরকারকে জনগণের মনোভাব সম্পর্কে জ্ঞাত করেছিলেন। এইসব প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে সরকারও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সচেষ্ট হত। যেমন উপরোক্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল মন্টেগুচেমসফোর্ড সংস্কার আইন প্রবর্তন।

চিঠিপত্রের আদান-প্রদান: 
সরকারি ব্যবস্থায় চিঠিপত্র আদান-প্রদান করা একটি স্বাভাবিক ঘটনা। বিশেষ করে প্রাদেশিক শাসনকর্তাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় শাসনকর্তাদের চিঠিপত্রের ব্যাপক আদান-প্রদান ঘটত। এই চিঠিপত্রের মাধ্যমে তাঁরা শাসনকার্য পরিচালনায় বিভিন্ন প্রস্তাবের যেমন আলোচনা করতেন, তেমনি কোনো শাসনতান্ত্রিক সমস্যার সমাধানের জন্য চেষ্টা করতেন।

প্রসঙ্গে ‘রিজলি পত্রে’র কথা উল্লেখযোগ্য। ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্রসচিব এইচ. এইচ. রিজলি বাংলার লেফটেন্যান্ট গভর্নর অ্যান্ড্রু ফ্রেজারের সুপারিশকে সমর্থন করে বাংলা ভাগের জন্য এই পত্র লিখেছিলেন। প্রধানত এই পত্রের উপর ভিত্তি করেই বঙ্গভঙ্গের (১৯০৫) ঘোষণা করা হয়।

তথ্য সূত্র:
ইতিহাস ও পরিবেশ (Password)
_ কে এম সরিফুজ্জামান।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close