বাঙালির বিজ্ঞান ভাবনা ও বিজ্ঞানচর্চার ইতিহাসে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির অবদান


বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার ইতিহাসে ঠাকুরবাড়ির অবদান | ঠাকুরবাড়ির বিজ্ঞানভাবনা | HS Bengali Suggestion



বাংলার অন্যান্য বিষয়, যেমন গান, চিত্রকলা ইত্যাদির মত বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রেও ঠাকুরবাড়ির অবদান অবিস্মরণীয়। এ বিষয়ে ঠাকুরবাড়ি যে ব্যক্তিত্বের নাম উঠে আসে তিনি হলেন রবি ঠাকুরের পিতামহ দ্বারকানাথ ঠাকুর। প্রমথনাথ মল্লিকের 'কলিকাতার কথা' থেকে দ্বারকানাথের চিকিৎসা শিক্ষার জন্য অর্থ প্রদান এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এছাড়া ছাত্রদের উৎসাহদানের জন্য দ্বারকানাথ পরীক্ষায় যারা ভালো ফল করতেন তাদের পরিতোষিক প্রদান করতেন।  



ঠাকুরবাড়ির অন্যতম সদস্য ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে শব-ব্যবচ্ছেদ প্রবর্তন করেছিলেন তাতে দ্বারকানাথের ভূমিকা স্মরণীয়। তিনি কলকাতায় ফিবার হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনায় অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন। ঠাকুরবাড়ির অন্য সদস্য দ্বারকানাথের পুত্র দেবেন্দ্রনাথ জ্যোতির্বিদ্যা শিক্ষা করেন। এছাড়া রবীন্দ্রনাথ, স্বর্ণকুমারী দেবী প্রমূখ ব্যক্তিত্বরা বিজ্ঞান বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহী ছিলেন।


রবীন্দ্রনাথের প্রথম রচনা 'জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়' কিংবা স্বর্ণকুমারী দেবীর 'পৃথিবীতেও' জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। শুধুমাত্র জ্যোতির্বিদ্যা নয় ভূতত্ত্ব, নৃতত্ত্ব ও জীবতত্ত্ব বিষয়েও দেবেন্দ্রনাথের গভীর অনুরাগ ছিল। দেবেন্দ্রনাথ এর পুত্র দ্বিজেন্দ্রনাথ এর গণিত বিষয়ে গভীর জ্ঞান ছিল। যার ফলে তিনি ইউক্লিডের জ্যামিতি তিনি আধুনিক চিন্তাভাবনা করেন। রবীন্দ্রনাথের সেজদা হেমেন্দ্রনাথ মেডিকেল কলেজে পড়েছিলেন এবং জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ফ্রেনোলোজি নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close