ভারত বিভাগ কি অনিবার্য ছিল | ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজন কি অনিবার্য ছিল | Madhyamik History Suggestion


ভারত বিভাগ কি অনিবার্য ছিল | ভারত বিভাজন সম্পর্কে ঐতিহাসিক বিতর্ক | দশম শ্রেণী ইতিহাস সাজেশন | মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন অষ্টম অধ্যায় | মাধ্যমিক ইতিহাস বড় প্রশ্ন উত্তর

ভূমিকা:

ভারত বিভাগের অনিবার্যতা প্রসঙ্গে ' ঐতিহাসিকদের মধ্যে ব্যাপক মতবিরোধ রয়েছে। গবেষকদের মধ্যে অনেকেই বলেন যে, হিন্দু-মুসলিম বিভেদ থাকা সত্ত্বেও ভারত বিভাগ অনিবার্য ছিল না। ব্রিটিশ সরকার ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ নীতি প্রয়োগ করে ভারত ব্যবচ্ছেদ অনিবার্য করে তোলে। যদিও অনেক ঐতিহাসিক এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেন।


ভারত বিভাগের অনিবার্যতা: 

জাতীয় কংগ্রেসের দায়িত্ব : কংগ্রেস ভারত বিভাগ চায়নি। কিন্তু এ কথাও সত্য যে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে যে বিচ্ছিন্নতার বীজ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল তা বন্ধ করার | ব্যাপারে কংগ্রেস উদাসীন ছিল। এককথায় কংগ্রেস অধিকাংশ মুসলমানের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। তবে ব্রিটিশ শাসকের ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল নীতি’, কংগ্রেসের দায়িত্ব ইত্যাদিকে স্বীকার করেও এ কথা অনিবার্য যে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশভাগ ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।


মুসলিম লিগের দায়িত্ব:

অন্তর্বর্তী সরকারে লিগ যোগ না দেওয়ার ফলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে জিন্নার প্রত্যক্ষ সংগ্রামের ডাক এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা গৃহযুদ্ধের সৃষ্টি করেছিল। কংগ্রেস এই বিভীষিকার হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য ভারত ব্যবচ্ছেদকে মেনে নিয়েছিল বলে অনেকে মনে করেন।


মূল্যায়ন: 

সুতরাং দেখা যায় যে, ভারত বিভাগের জন্য ব্রিটিশ সরকার, জিন্না তথা মুসলিম লিগ এবং জাতীয় কংগ্রেস প্রত্যেকেই কোনো না কোনো ভাবে দায়ী ছিল। তবে এ কথা সত্য যে, এরা কেউই প্রথমে দ্বিখণ্ডিত ভারতকে চাননি। মুসলিম লিগের অবিবেচনা প্রসূত চিন্তাধারা, ব্রিটিশ শাসকের বিভেদ নীতি এবং জাতীয় কংগ্রেসের মুসলমানদের সম্পর্কে উদাসীনতাই শেষপর্যন্ত ভারত বিভাগকে অনিবার্য করে তুলেছিল। তবে কার দায়িত্ব কতটা—সে বিষয়ে বিতর্ক চলতেই পারে।


তথ্য সূত্র: মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন (ড. পাহাড়ী)

Tallent Booster 




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close