বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা | মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন | Madhyamik History Suggestion


বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে নারীদের অবদান | স্বদেশী আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা | দশম শ্রেণী ইতিহাস বড় প্রশ্ন উত্তর | মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন | WB Class 10 History Suggestion


ভূমিকা:

বৃহৎসংহিতায় বলা হয়েছে, নারীরা হলেন ‘গৃহলক্ষ্মী’ আবার মনুসংহিতায় বলা হয়েছে, 'নারী হলেন গৃহের দীপ্তি’। এই ‘গৃহলক্ষ্মী’ কিংবা ‘গৃহের দীপ্তি’-রা যখন আন্দোলনে অংশ নেয় তখন তার অর্থ বদলে যায়। এইরকমই একটি আন্দোলন হল বঙ্গভঙ্গের বিরোধী আন্দোলন।


বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা: ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজরা তাদের সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ চরিতার্থ করতে বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা করলে নারীরা তার প্রতিবাদ জানায়। যেমন—


১. অরন্ধন দিবস: 

১৬ অক্টোবর (১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হলে রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদীর পরামর্শে অরন্ধন দিবসের ডাক দেওয়া হয়। এতে সাড়া দিয়ে বাংলার ঘরে ঘরে নারীরা সেদিন রন্ধনকার্য থেকে বিরত থাকে ও বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদ জানায়।


২. বয়কট আন্দোলনে নারী: 

বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে যখন এদেশে কৃষ্ণকুমার মিত্রের (‘সঞ্জীবনী' পত্রিকার সম্পাদক) বয়কট আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়, তাতেও নারীরা দলে দলে অংশ নেয়। মেয়েরা সিঁদুর, চুড়ি, লবণ—সবই বর্জন করার সিদ্ধান্ত নেয়। এমনকি পিকেটিং-এ তারা অংশ নেয়।


৩. স্বদেশি প্রতিষ্ঠান তৈরি: 

বঙ্গভঙ্গের সময় স্বদেশি আন্দোলন বৃদ্ধির জন্য নারীরা বেশ কিছু স্বদেশি প্রতিষ্ঠান তৈরি করে। যেমন—স্বর্ণকুমারী দেবীর ‘সখী সমিতি’, সরলা দেবী চৌধুরানীর ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ইত্যাদি।


৪. জাতীয় চেতন বৃদ্ধি: 

জাতীয় ব্রত পালন চেতন বৃদ্ধির জন্য নারীরা এসময় বীরাষ্টমী করছিল। এ ছাড়া 'মহিলা পরিষদ' (১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ), 'ভারত মহিলা পরিষদ' ‘সেবা-সদন’ ও অসংখ্য নারী জাতীয় চেতনা বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।


৫. বিপ্লবী আন্দোলনে নারী: 

বঙ্গভঙ্গের সময় পরিচালিত বিপ্লবী আন্দোলনেও নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। যেমন—ফরিদপুরের সৌদামিনী দেবী, ঢাকার ব্রহ্মময়ী সেন, বরিশালের সরোজিনী দেবী, বিপ্লবীদের আশ্রয়দান ও অস্ত্র জোগানে সহায়তা করেছিল।


তথ্য সূত্র: মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন (ড. পাহাড়ী)

Tallent Booster 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close