প্রবন্ধ রচনা: ইন্টারনেট ও আধুনিক জীবন | Internet and Modern Life


প্রবন্ধ রচনা: ইন্টারনেট ও আধুনিক জীবন | Internet and Modern Life | ইন্টারনেট ও আধুনিক জীবন প্রবন্ধ রচনা


ইন্টারনেট কী (What is Internet)?

সারা পৃথিবী জুড়ে বিস্তৃত, পরস্পরের সঙ্গে সংযোগের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক নির্ভর আধুনিক ব্যবস্থাপনার নাম ইন্টারনেট। এই ব্যবস্থাপনা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত এবং এখানে ইন্টারনেট প্রটোকলের প্রামাণ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে ডাটা আদান-প্রদান হয়। ইন্টারনেটের সম্পূর্ণ নাম 'ইন্টারনেটওয়ার্ক'। এই ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গেটওয়ের মাধ্যমে কম্পিউটার নেটওয়ার্কগুলি একে অপরের সাথে সংযোগ তৈরি করে।


 ইন্টারনেটের কেন্দ্রীয় ব্যাবস্থাপক সংস্থা কোনটি?

ক্যালিফোর্নিয়ায় আবিষ্কৃত ইন্টারনেট 'কর্পোরেশন ফর অ্যাসাইনড নেমস এন্ড নাম্বার' সংস্থাটি এখন বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেটের কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপক সংস্থা।


ইন্টারনেট পরিষেবা (Internet service):

ইন্টারনেট বহন করে নিয়ে চলেছে একগুচ্ছ নেটওয়ার্কভিত্তিক পরিষেবাকে। যেমন- ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব, ইলেকট্রনিক মেল, ইন্টারনেট ফোন, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি।


আধুনিক জীবনে ইন্টারনেটের ব্যবহার (Internet use in modern life):


১. নেটওয়ার্ক হিসেবে-

কোনো ইনস্টিটিউশন বা সংস্থা ইন্টারনেটের মাধ্যমে তাদের অফিস কর্মচারীদের মধ্যে যোগাযোগ রাখতে পারে। লকডাউন চলাকালীন তাই খুব সহজেই ঘরে বসে অফিশিয়াল কাজ অব্যাহত রাখা গেছে।


২. মাধ্যম হিসেবে- 

কোনো সংস্থার উৎপাদিত বস্তু এবং তাদের কেনাবেচা সংক্রান্ত যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে এর ব্যবহার আজ সর্বজনস্বীকৃত। করণা পরিস্থিতিতে খাদ্য থেকে ওষুধপত্র অবলীলায় মানুষের হাতে এসে পৌঁছেছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে।


৩. ব্যবসা ক্ষেত্রে-

বর্তমানে ইন্টারনেটের ব্যবহার বাণিজ্যের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। নিজ নিজ ওয়েব পেজে সংস্থার যাবতীয় বিষয় তুলে ধরে ব্যবসার পথ সুগম হয়েছে। আবার গ্রাহক পরিষেবা বিস্তৃত ক্ষেত্র- টেলিফোন, রেলওয়ে, বিমানসংস্থা, হোটেল পরিষেবায় গ্রাহক সন্তুষ্টির অন্যতম মাধ্যম ইন্টারনেট।


 ৪. বিনোদনের উৎস হিসেবে ইন্টানেটের ব্যাবহার-

ইমেল থেকে শুরু করে খেলাধুলা একটি নেটনির্ভর স্মার্টফোনের দৌলতে আজ মানুষের নাগালে। গান, সিনেমা, আড্ডা - সবকিছুই আজ ইন্টারনেট মারফত মানুষের ছায়াসঙ্গী।

শিক্ষা ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের গুরুত্ব-

ইন্টারনেটের ব্যাবহার শিক্ষা ক্ষেত্রে ডেটা সংগ্রহে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। পঠনপাঠন থেকে শুরু করে গবেষণায় নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে ইন্টারনেট। 

দূরশিক্ষার প্রসারে ইন্টারনেটের ব্যবহার প্রচলিত ক্লাসরুম ধারণাকে ভেঙে দিচ্ছে। বিভিন্ন সংস্থার কোচিং, পরীক্ষা এখন অনেকটাই ইন্টারনেটনির্ভর। শিক্ষাবিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ইন্টারনেটের দৌলতে আজ হাতের মুঠোয়। লকডাউনে স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটি বন্ধ থাকলেও থেমে থাকেনি পড়াশোনা। অনলাইন ক্লাসের বদান্যতায় শিক্ষা ব্যবস্থা অব্যাহত থেকেছে। এমনকি যথাসাধ্য মূল্যায়ন পদ্ধতিরও ব্যবস্থা করা গেছে।


ইন্টারনেটের অপব্যাবহার (Misuse of the Internet):

ইন্টারনেটের অপরিহার্যতা - এ নিয়ে বিতর্ক করে লাভ নেই। কিন্তু তার ব্যবহারেরর ক্ষতিকারক দিকগুলি সম্পর্কে সচেতন না থাকলে আধুনিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে। সমস্যাগুলোকে আমরা এভাবে চিহ্নিত করতে পারি - 

১. ব্যাক্তিগত তথ্য চুরি, ২. স্পামিং সমস্যা, ৩. ভাইরাস আক্রমণ, ৪. হ্যাকিং সমস্যা, ৫. ভুল তথ্য, ৬. শারীরিক ক্রিয়া কমে আসায় স্বাস্থ্যের অবনতি, ৭. লকডাউনকালে ইন্টারনেটের মাধ্যমেই সারাদিন ব্যাপী অনলাইন ক্লাস বা অফিশিয়াল কাজকর্ম। যার ফলে মানসিক অবসাদ শারীরিক অসুস্থতা।


উপসংহার:

একজন সচেতন, দক্ষ ও মানবিক গুণের মানুষই পারে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে উন্নততর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে। আগামী পৃথিবীতে সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে কাটিয়ে আমাদের সমাজে ইন্টারনেটের ব্যবহারকে আরও কার্যকর করে, অত্যাধুনিক করে তুলতে হবে মানব সভ্যতাকে।


[ছাত্র ছাত্রীদের সুবিধার্তে বিভিন্ন সহায়ক গ্রন্থের সাহায্য নিয়ে সুন্দরভাবে এই প্রবন্ধটি তৈরি করা হয়েছে। তাই প্রবন্ধটি ভালো লাগলে অবশ্যই নিজের বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করবে।]

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close