মহাবিদ্রোহের ব্যর্থতার কারণগুলি আলোচনা করো

 


মহাবিদ্রোহ ব্যর্থ হয়েছিল কেন | সিপাহী বিদ্রোহের ব্যর্থতার কারণ


ভূমিকা: 

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহ ছিল দেশীয় সিপাহিদের আত্মত্যাগ ও বীরত্বের কাহিনি। কিন্তু সেই বীরত্ব ও আত্মত্যাগ আপাত বিচারে বিফলে গিয়েছিল। মহাবিদ্রোহ শেষপর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছিল।


মহাবিদ্রোহের ব্যর্থতার কারণ


১. আঞ্চলিক সীমাবদ্ধতা: 

মহাবিদ্রোহ মূলত বিহার, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশেই সীমাবদ্ধ ছিল। পাঞ্জাব, সিন্ধু, রাজপুতানা, দাক্ষিণাত্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে এই বিদ্রোহের কোনো প্রভাব পড়েনি।


২. দুর্বল নেতৃত্ব: 

সিপাহিদের মধ্যে লক্ষ্মীবাঈ, নানাসাহেব, তাঁতিয়া টোপি ছাড়া যোগ্য নেতৃত্বের অভাব ছিল। অপরদিকে লরেন্স, আউট্রাম, নিকলসন, নীল প্রমুখ ইংরেজ সেনাপতি অনেক বেশি দক্ষ ও যোগ্য ছিলেন। তাই দুর্বল নেতৃত্ব সিপাহিদের ভরাডুবি ঘটায়।


৩. সর্বভারতীয় ঐক্যের অভাব: 

বিদ্রোহী নেতারা অনেকেই জাতীয় স্বার্থ অপেক্ষা ব্যক্তিগত স্বার্থকে বড়ো করে দেখেন। গোয়ালিয়রের সিন্ধিয়া, ভূপালের বেগম, নেপালের স্যার জঙ্গ বাহাদুর, যোধপুরের রাজাসহ অনেক দেশীয় রাজা মহাবিদ্রোহ থেকে দূরে সরে থাকেন। অন্যদিকে, কাশ্মীরের গুলাব সিংহ, নেপালের গোর্খা ও পাঞ্জাবের শিখ সৈন্যরা ইংরেজদের সঙ্গে মিলিত হয়ে এই বিদ্রোহ দমনে তৎপর হয়। সর্বভারতীয় ঐক্যের অভাবেই এই বিদ্রোহ ব্যর্থ হয়।


৪. নির্দিষ্ট লক্ষ্যের অভাব:

সিপাহিদের মধ্যে নির্দিষ্ট লক্ষ্যের অভাব ছিল। নানাসাহেবের লক্ষ্য ছিল পেশোয়া পদ ফিরে পাওয়া। লক্ষ্মীবাঈ চেয়েছিলেন নিজের রাজ্যকে পুনরায় উদ্ধার করতে। আর বাহাদুর শাহের লক্ষ্য ছিল মোগল শক্তিকে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করা। এই আলাদা-আলাদা লক্ষ্য মহাবিদ্রোহকে ব্যর্থ করে।


৫. আধুনিক অস্ত্রের অভাব: 

সিপাহিদের মধ্যে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সমর উপকরণের অভাব ছিল। অপরদিকে ইংরেজরা আধুনিক রণকৌশল ব্যবহার করায় মহাবিদ্রোহ দমন করতে সমর্থ হয়।


৬. অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা: 

রেলওয়ে ও টেলিগ্রাফ ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে ইংরেজ সেনাবাহিনী বিদ্রোহীদের ওপর নজর রাখতে বা দমনমূলক ব্যবস্থা নিতে পেরেছিল। নৌশক্তিকে কাজে লাগিয়ে ইংল্যান্ড, পারস্য, সিঙ্গাপুর প্রভৃতি স্থান থেকে অতিরিক্ত সেনা ও যুদ্ধাস্ত্র আনার সুবিধা ছিল ইংরেজদের। এই আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল সিপাহিরা। ফলে তাদের এই বিদ্রোহ ব্যর্থ হয়।


৭. শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির অসহযোগিতা: 

ভারতের শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি সিপাহি বিদ্রোহ থেকে দূরে সরে ছিল। বণিকশ্রেণিও এই বিদ্রোহের পক্ষে ছিল না। এদের মিলিত অসহযোগিতায় সিপাহি বিদ্রোহ শেষপর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।


তথ্য সূত্র:

ইতিহাস শিক্ষক- অষ্টম শ্রেণী | জে মুখোপাধ্যায়


Winter please: 6 high-minded snacks you can value during winter- Click Here

7 Clinical benefits of sweet potato the ideal development to your colder season diet- Click Here

Page Organizations, Suven Pharma, PNB and Center Bank: Could it be smart for you to buy, hold or sell? - Click Here

Stocks to buy in 2023: Kajaria, Nesco, Sterlite Tech, Mahindra CIE and IndusInd Bank among ICICIdirect's top pick- Click Here


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close