১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে মহাবিদ্রোহের ফলাফল বা প্রভাব | সিপাহী বিদ্রোহের ফলাফল


মহাবিদ্রোহের ফলাফল | সিপাহী বিদ্রোহের ফলাফল | মহাবিদ্রোহের ফলাফল প্রভাব | মহাবিদ্রোহের তাৎপর্য 

সূচনা: 

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহ বা সিপাহি বিদ্রোহের ফলে ভারতের রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থায় এক সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন ঘটে। এই মহাবিদ্রোহের আদর্শ পরবর্তী সময়ে ভারতের জাতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনে ও ব্রিটিশ প্রশাসনের ওপর তার ছাপ ফেলেছিল।


মহাবিদ্রোহের ফলাফল:

১. কোম্পানির শাসনের অবসান: 

মহাবিদ্রোহের পর লন্ডনস্থ ব্রিটিশ সরকার ভারতের শাসনভার আর কোম্পানির হাতে রাখতে সাহস পেল না। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ‘ভারতশাসন আইন’ ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে পাস হয়। এই আইনের মাধ্যমে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটিয়ে মহারানি ভিক্টোরিয়ার হাতে ভারতের শাসনভার তুলে দেওয়া হয়। স্থির হয় রানির প্রতিনিধি হিসেবে একজন ভাইসরয় ভারত শাসন করবেন।


২. শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তন: 

কাউন্সিল আইন পাস করে পূর্বেকার সনদ আইনের কেন্দ্রীকরণ নীতির প্রস্তাব বাতিল করা হয়। ভারতের ব্রিটিশ প্রশাসনকে আরও বিকেন্দ্রীকরণ করার চেষ্টা শুরু হয়। মুম্বাই ও মাদ্রাজ কাউন্সিলকে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়া হয়। স্থির হয় ভারত সচিবকে শাসন পরিচালনায় সাহায্য করবে পনেরো সদস্যবিশিষ্ট ‘ইন্ডিয়ান কাউন্সিল'।


৩. সামরিক সংস্কার: 

মহাবিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সামরিক বিভাগকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ভারতের ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে বিদেশি সেনার সংখ্যা বাড়ানো হয়, গোলন্দাজ বাহিনীতে ভারতীয় সেনাদের নিয়োগ বন্ধ করা হয়। প্রেসিডেন্সি সেনাবাহিনীকৈ আলাদা করে দেওয়া হয়, ভারতীয় সেনাদের সেনাবাহিনীর উচ্চপদে নিয়োগ বন্ধ রাখা হয়।


৪. দেশীয় রাজনীতিতে পরিবর্তন: 

মহাবিদ্রোহের আগে দেশীয় রাজ্যগুলিকে রক্ষার নামে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করা হয়েছিল। এখন থেকে দেশীয় রাজ্যগুলি সম্পর্কে বন্ধুত্বপূর্ণ নীতি নেওয়া হয়, যাতে ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য দীর্ঘস্থায়ী হয়।


৫. মোগল সাম্রাজ্যের অবলুপ্তি: 

সিপাহি বিদ্রোহের পরেই মোগল সাম্রাজ্যের সম্পূর্ণরূপে অবসান ঘটে। বিদ্রোহে সিপাহিদের মদত দেওয়ার অভিযোগে দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে রেঙ্গুনে নির্বাসিত করা হয়। এ ছাড়াও তাঁর পুত্র ও পৌত্রদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।


৬. নতুন যুগের সূচনা: 

ব্রিটিশ সরকার বিভিন্নভাবে ভারতবাসীর মধ্যে ধর্মীয় ও আঞ্চলিক বিভেদ ঘটানোর চক্রান্ত চালাতে থাকে। এতে ইংরেজি শিক্ষিত ভারতবাসী নতুন চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট হয়। গড়ে উঠতে থাকে বিভিন্ন সভা, সমিতি ও আন্দোলন। সূচনা ঘটে এক নতুন যুগের।


তথ্য সূত্র:

ইতিহাস শিক্ষক- অষ্টম শ্রেণী | জে মুখোপাধ্যায়।


Winter please: 6 high-minded snacks you can value during winter- Click Here

7 Clinical benefits of sweet potato the ideal development to your colder season diet- Click Here

Page Organizations, Suven Pharma, PNB and Center Bank: Could it be smart for you to buy, hold or sell? - Click Here

Stocks to buy in 2023: Kajaria, Nesco, Sterlite Tech, Mahindra CIE and IndusInd Bank among ICICIdirect's top pick- Click Here


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close