পলাশীর যুদ্ধের কারণগুলি আলোচনা করো | Causes of Battle of Plassey


পলাশীর যুদ্ধের কারণ | পলাশীর যুদ্ধের প্রেক্ষাপট | পলাশীর যুদ্ধের পটভূমি 


ভূমিকা:

বাংলার নবাব আলিবর্দি খাঁ-র মৃত্যুর পর তাঁর কনিষ্ঠা কন্যা আমিনা বেগমের পুত্র সিরাজ-উদ্-দৌলা বাংলার নবাবের পদে বসেন। সিংহাসনে বসার কিছুদিনের মধ্যেই সিরাজের সঙ্গে ইংরেজদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ইংরেজদের সঙ্গে সিরাজের বিবাদের পরিণতি হিসেবে পলাশীর যুদ্ধ (১৭৫৭ খ্রি.) বাধে।


সিরাজ-উদ্-দৌলার সঙ্গে ইংরেজদের বিবাদের কারণ/পলাশির যুদ্ধের কারণ:


১. নবাবের অসম্মান: 

সিরাজ-উদ্-দৌলা বাংলার নবাব পদে বসার পর প্রথা অনুযায়ী ফরাসি, ওলন্দাজ বণিকরা নজরানা পাঠিয়ে তাঁকে সম্মান জানায়। কিন্তু ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তা না জানানোয় সিরাজ ইংরেজদের ওপর রুষ্ট হন।


২. দুর্গ নির্মাণ: 

বাংলায় ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলার অনুমতি ছাড়াই দুর্গ নির্মাণ করতে শুরু করে। সিরাজ এই সংবাদ পেয়ে দুর্গ নির্মাণ বন্ধের আদেশ পাঠান। কিন্তু সিরাজের আদেশ অগ্রাহ্য করে ইংরেজরা দুর্গ নির্মাণ অব্যাহত রাখে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সিরাজ সেনাবাহিনী পাঠিয়ে দুর্গ নির্মাণের কাজ বন্ধ করান। ফলে উভয়ের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে।


৩. দস্তকের অপব্যবহার: 

মোগল সম্রাট ফারুকশিয়রের ফরমান অনুযায়ী কোম্পানি 'দস্তক’ অর্থাৎ বিনা শুল্কে বাংলা দেশে বাণিজ্য করার অধিকার পেয়েছিল। কিন্তু কোম্পানির কর্মচারীরা ব্যক্তিগত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দস্তক ব্যবহার করায় সিরাজ ক্ষুব্ধ হন। 


৪. সিরাজের দূতকে অপমান: 

সিরাজের মাসি ঘসেটি বেগমের দেওয়ান রাজবল্লভের পুত্র কৃষ্ণদাস কলকাতায় ইংরেজের ঘাঁটিতে আশ্রয় নেন। সিরাজ তাঁর দূত নারায়ণ দাসের মাধ্যমে কৃষ্ণদাসকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ইংরেজের কাছে আদেশবার্তা পাঠান। কিন্তু ইংরেজ গভর্নর ড্রেক সিরাজের দূতকে অপমান করে তাড়িয়ে দেন। সিরাজ এতে অত্যন্ত অপমানিত বোধ করেন।


৫. পারিবারিক ষড়যন্ত্রে ব্রিটিশ মদত: 

সিরাজ নবাব পদে বসার পর তাঁর আত্মীয়পরিজনরা তা মেনে নিতে পারেনি। আলিবর্দি খাঁর জ্যেষ্ঠা কন্যা ঘসেটি বেগম এবং আলিবর্দি খাঁর মধ্যম কন্যার পুত্র সৌকতজঙ্গ সিরাজকে সিংহাসনচ্যুত করার জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। সিরাজবিরোধী এই ষড়যন্ত্রে রবার্ট ক্লাইভ মদত দেন। এই ষড়যন্ত্রের সংবাদ পেয়ে সিরাজ ইংরেজদের সমুচিত শিক্ষা দেওয়ার মনস্থির করেন।


পলাশীর যুদ্ধের সূচনা: 

ইংরেজদের উচিত শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সিরাজ প্রথমেই কাশিম বাজার কুঠি দখল করেন এবং ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গসহ কলকাতার দখল নেওয়ার পর মুরশিদাবাদে ফিরে যান। এরপর ক্লাইভ ও নৌসেনাপতি ওয়াটসনের নেতৃত্বে ইংরেজরা পুনরায় কলকাতা অধিকার করে নেয়। সিরাজ এই সংবাদ পেয়ে কলকাতায় এসে ইংরেজদের সঙ্গে আলিনগরের সন্ধি (১৭৫৭ খ্রি. ৯ ফ্রেব্রুয়ারি) স্বাক্ষর করেন। ক্লাইভ আলিনগরের সন্ধি ভাঙার অজুহাতে নবাবের কাছে এক চরমপত্র পাঠান। চরমপত্রের উত্তর আসার আগেই ক্লাইভ তাঁর সেনাবাহিনী নিয়ে মুরশিদাবাদের দিকে রওনা দেন। ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৩ জুন পলাশির প্রান্তরে ক্লাইভের বাহিনীর সঙ্গে সিরাজের যুদ্ধ বাধে, যা পলাশীর যুদ্ধ নামে পরিচিত।


তথ্য সূত্র:

ইতিহাস শিক্ষক- অষ্টম শ্রেণী | জে মুখোপাধ্যায়। 



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close