ভারতীয় সংবিধানের বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো | Features of Indian Constitution in Bengali


ভারতীয় সংবিধানের বৈশিষ্ট্য | ভারতীয় সংবিধান | Constitution of India


ভারতীয় সংবিধানের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। ভারতীয় সংবিধান পৃথিবীর বৃহত্তম লিখিত ও জটিল সংবিধান। রচনাকালেই এর আয়তন ছিল বিশাল। শাসনকার্য পরিচালনা করার প্রধান নীতি ও নিয়মগুলি ছাড়াও এতে অন্যান্য বহু বিষয়ের উল্লেখ করা হয়েছে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে অনভিজ্ঞ জনসাধারণের মধ্যে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পরিচালনার জন্য শ্যসনব্যবস্থা-বহির্ভূত বহু বিষয়ই সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে (১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত) ৭৮ বার সংশোধনের ফলে সংবিধানে নানা ধারা-উপধারা যোগ হয়ে এর আয়তন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।


১. সংবিধানে কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারগুলির মধ্যে শাসন ক্ষমতা ও আইন প্রণয়ন ক্ষমতা বন্টিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় তালিকা, রাজ্য তালিকা এবং এছাড়া একটি যৌথ তালিকা আছে, যার ওপর কেন্দ্র ও রাজ্য উভয়েরই আইন প্রণয়নের ক্ষমতা আছে। তবে যৌথ তালিকার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার প্রণীত কোন আইন কেন্দ্রীয় আইনের বিরোধী হলে রাজ্যসরকার প্রবর্তিত আইনটি বাতিল হবে এবং কেন্দ্রীয় আইনটিই বলবৎ থাকবে। জরুরী অবস্থায় বা প্রয়োজনবোধে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য তালিকাভুক্ত বিষয়গুলির ওপরেও আইন প্রণয়ন করতে পারেন। এ ছাড়া, সংবিধানে যেসব বিষয়ের উল্লেখ নেই কেন্দ্রীয় সরকার সেগুলির ওপর আইন প্রবর্তন করতে পারেন।


২. সংবিধানে মৌলিক অধিকার ছাড়াও কয়েকটি নির্দেশাত্মক নীতি সংযোজিত হওয়ায় সংবিধানের জটিলতা বৃদ্ধি পেয়েছে।


৩. নানা দেশের শাসনতন্ত্রের কিছু কিছু অংশ নিয়ে ভারতীয় সংবিধান রচিত হয়েছে। ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনা ও মৌলিক অধিকারগুলি আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, নির্দেশাত্মক নীতিগুলি আয়ারল্যান্ড ও বার্মা, যুক্তরাষ্ট্রীয় আদর্শটি কানাডা এবং পার্লামেন্টারী শাসনব্যবস্থার আদর্শটি ব্রিটেনের শাসনতন্ত্র থেকে নেওয়া হয়েছে। এই সব কারণে ভারতীয় শাসনতন্ত্রে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে।


৪. ভারতীয় সংবিধানে যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনতন্ত্রের সঙ্গে এককেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থার অপূর্ব সমন্বয় পরিলক্ষিত হয়। এখানে কেন্দ্রীয় তালিকাভুক্ত বিষয়গুলির ওপর আইন প্রণয়ন করার অধিকারী হল কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্য তালিকাভুক্ত বিষয়গুলির ওপর আইন প্রণয়ন করেন রাজ্য সরকারসমূহ। যৌথ-তালিকাভুক্ত কোন বিষয়ে রাজ্য সরকার প্রণীত আইন কেন্দ্রীয় আইনের বিরোধী হলে রাজ্য সরকার প্রবর্তিত আইনটি বাতিল হয়ে যাবে এবং কেন্দ্রীয় আইনটিই বলবৎ থাকবে। কিন্তু জরুরী অবস্থায় বা প্রয়োজনবোধে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য তালিকাভুক্ত বিষয়ে আইন প্রণয়ন করার ক্ষমতা রাখেন। অনুল্লিখিত বিষয়গুলির ওপর আইন প্রণয়ন করার ক্ষমতাও কেন্দ্রীয় সরকারের। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্রীয় সংবিধানের কাঠামোতে গঠিত হলেও ভারতের সংবিধান প্রয়োজন অনুসারে এককেন্দ্রিক সংবিধানে পরিণতি হতে পারে বা তা অধিকমাত্রায় কেন্দ্রপ্রবণ।


৫. সংবিধানের প্রস্তাবনায় ভারতবর্ষকে ‘সার্বভৌম গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র' নামে অভিহিত করা হয়েছে। এর অর্থ হল ভারতবর্ষ আভ্যন্তরীণ নীতি-নির্ধারণ ও বৈদেশিক সম্পর্ক স্থাপনের ব্যাপারে কারও মতামত গ্রহণ করতে বাধ্য নয়। এখানে গণতান্ত্রিক সরকার বিদ্যমান এবং এই শাসনব্যবস্থায় কোন প্রকার রাজা বা রাণীর স্থান নেই।


৬. আয়ারল্যান্ডের সংবিধানের অনুকরণে ভারতীয় সংবিধানেও কতকগুলি নির্দেশাত্মক নীতি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। দেশের শাসন কর্তৃপক্ষ দেশ শাসন করা সময় এই নীতিগুলির সঙ্গে যথেষ্ট সামঞ্জস্য রেখে চলার চেষ্টা করবেন। কিন্তু সরকার এগুলি না মানলে কোন নাগরিকই আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close