দিল্লি সুলতানি সাম্রাজ্যের পতনের পতনের কারণ | দিল্লি সুলতানির পতনের কারণ | সুলতানি সাম্রাজ্যের পতনের কারণ

 


দিল্লি দিল্লি সুলতানি সাম্রাজ্যের পতনের পটভূমি | সুলতানি সাম্রাজ্যের পতনের প্রেক্ষাপট 


১২০৬ খ্রিস্টাব্দে কুতুবউদ্দিন আইবকের সিংহাসনারোহণের ফলে দিল্লী সুলতানী প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে মোঘল বীর বাবরের হাতে ইব্রাহিম লোদীর পরাজয়ে সুলতানী শাসনের অবসান ঘটে। দীর্ঘ তিন শতাধিক বৎসর স্থায়ী এই সাম্রাজ্যের পতনের পশ্চাতে নানা কারণ বিদ্যমান ছিল। 


১. সাম্রাজ্যের বিশালতা:

সাম্রাজ্যের বিশালতা সুলতানী সাম্রাজ্যের পতনের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল। অপ্রতুল ও অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার ফলে সমগ্র উত্তর ভারত ও দাক্ষিণাত্যের এক বিস্তীর্ণ স্থান নিয়ে গঠিত ঐ বিশাল সাম্রাজ্যকে দিল্লী থেকে শাসন করা সম্ভব ছিল না। এ ছাড়া, আঞ্চলিক ও ভাষাগত বিভিন্নতাও এর সংহতি বিনষ্ট করেছিল।


২. জন-সমর্থনের অভাব:

দিল্লী সুলতানীর মূল ভিত্তি ছিল সামরিক বল এবং সামরিক বলের ওপরেই তা প্রতিষ্ঠিত ছিল। এর পশ্চাতে কোন জন-সমর্থন বা জনগণের কোন আনুগত্য ছিল না। সাম্রাজ্যের নিরাপত্তার ব্যাপারেও জনগণের কোন আগ্রহ ছিল না। জন-সমর্থনের অভাবে সুলতানশাহীর ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।


৩. দুর্বল শাসকবৃন্দ:

স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে সম্রাটের ব্যক্তিগত দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল। ইলতুৎমিস, বলবন বা আলাউদ্দিন খলজীর আমলে সুলতানশাহীর শ্রীবৃদ্ধি ঘটলেও পরবর্তীকালে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। পরবর্তী সুলতানদের অধিকাংশই ছিলেন দুর্বলচিত্ত, বিলাসপ্রিয়, নীতিবোধহীন ও শাসনকার্যে অক্ষম। এর ফলে সুলতানী শাসনের পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে। 


৪. দুর্বল সেনাবাহিনী:

সুদক্ষ সেনাবাহিনী ছিল সুলতানী শাসনের ভিত্তি। এই সেনাবাহিনীর সাহায্যে আসমুদ্রহিমাচল সাম্রাজ্য বিস্তার, বিদ্রোহ দমন ও মোঙ্গল আক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। কালক্রমে সেনাদল তার এই গৌরব হারিয়ে ফেলে। সেনাবাহিনীতে নিয়োগ বংশানুক্রমিক হওয়ার ফলে সেনাবাহিনী অযোগ্য ও অকর্মণ্য লোকে ভরে যায়। এর ফল সাম্রাজ্যের পক্ষে মারাত্মক হয়ে ওঠে।  


৫. অভিজাত শ্রেণীর অবক্ষয়

অভিজাতশ্রেণী ছিল দিল্লী সুলতানীর স্তম্ভস্বরূপ। তাঁদের বীরত্ব ও কর্মদক্ষতা নানাভাবে সুলতানশাহীকে সাহায্য করে। কালক্রমে এই অভিজাতশ্রেণী দুর্নীতিগ্রস্ত, বিলাসপ্রিয়, ক্ষমতালোভী ও ষড়যন্ত্রপরায়ণ হয়ে ওঠে। বলবন ও আলাউদ্দিন খলজী এই সব দুর্নীতিপরায়ণ ও উচ্চাকাঙ্খী অভিজাতদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হলেও, পরবর্তীকালে তাঁরা অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন। মহম্মদ-বিন-তুঘলক ও ফিরোজ তুঘলক মুখ বুজে তাঁদের সব অত্যাচার ও দুর্নীতি সহ্য করতে বাধ্য হন। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close