প্রবন্ধ রচনা: কন্যাশ্রী প্রকল্প | Kanyashree Scheme

কন্যাশ্রী প্রকল্প | Kanyashree Scheme | Kanyashree Prakalpa | কন্যাশ্রী প্রকল্প রচনা | কন্যাশ্রী প্রকল্প প্রবন্ধ রচনা

 ভূমিকা:

স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন 'এক ডানায় ভর করে পাখি উড়তে পারে না'। তার এই বানীর সূত্র ধরে বলা যায় সমাজের সার্বিক কল্যাণ, দেশের প্রকৃত উন্নতি তখনই সম্ভব, যখন নারী পুরুষ উভয়ের অগ্রগতি ঘটেছে সমানভাবে। শিক্ষা, আর্থিক স্বাধীনতা, পেশা, সামাজিক আধিপত্য - সবক্ষেত্রে পুরুষের একচ্ছত্র অধিকার  প্রকৃত সভ্যতার অন্তরায়। প্রতিটি ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমানাধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে তবেই সভ্যতাকে, আধুনিকতাকে যথার্থ ও সার্থক বলা যায়। আর এই লক্ষ্যেই ব্যবস্থা করা হয় বিভিন্ন নারী কল্যাণ প্রকল্পের।


কন্যাশ্রী প্রকল্প কী? (What is Kanyashree Scheme?)

কন্যাশ্রী প্রকল্প অনুসারে, যেসব পরিবারের বাৎসরিক আয় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বা তার চেয়ে কম, সেই পরিবারের ১৩ - ১৮ বছর বয়সী ছাত্রীরা বছরে ৫০০ টাকা করে বৃত্তি পাবে ( এখন বেড়ে হয়েছে ৭৫০ টাকা)। যদিও অনাথ বা প্রতিবন্ধী ছাত্রীদের ক্ষেত্রে আয়ের কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই। শিক্ষার মূলস্রোতে থেকে লেখাপড়া চালিয়ে গেলে এই ছাত্রীরা ১৮ বছর বয়সে পাবে এককালীন ২৫ হাজার টাকা।


কন্যাশ্রী প্রকল্পের লক্ষ্য 

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ২০১৩ সালে কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু হয়।পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নারী-উন্নয়ন ও সমাজ কল্যাণ দপ্তর কর্তৃক আয়োজিত এই প্রকল্পটির লক্ষ্য হল- 

১. মেয়েরা যাতে নিয়মিত ন্যূনতম উচ্চমাধ্যমিক স্তর অবধি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে তার চেষ্টা করা।

২. দরিদ্র পরিবারের যেসব মেয়েরা অর্থাভাবে পড়াশোনা বন্ধ করে দেয় তাদের সাহায্য করা।

৩. বাল্যবিবাহ প্রথাকে সমাজ থেকে দূর করা।


কন্যাশ্রী প্রকল্পের যোগ্যতামান- 

বহু কোটির দেশ ভারতের যথার্থ প্রয়োজনের ক্ষেত্রেই যাতে প্রকল্পটির সদ্ব্যবহার হয় তাই এর কিছু যোগ্যতামান নির্ধারিত হয়েছে। যথা- 

১. পরিবারের বাৎসরিক আয় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার কম হতে হবে।

২. যেকোনো স্বীকৃত বিদ্যালয়, মুক্ত বিদ্যালয় বা সমতুল্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নথিবদ্ধ ও নিয়মিত পাঠরতা হতে হবে।

৩. মেয়েটি 'জে-জে' হোমের আবাসিক হলে অথবা বাবা-মা দুজনেই মারা গিয়ে থাকলে কিংবা ছাত্রী প্রতিবন্ধী হলে পারিবারিক আয়ের শর্তটি প্রযোজ্য হবে না।  


উপসংহার: 

শুধুমাত্র প্রকল্প এবং যোজনা চালু করে নারী কল্যাণের গুরুদায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। প্রকল্পগুলির সুষ্ঠু নির্বাহই আসল কথা। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সমস্ত স্তরে ও মানুষজনের মধ্যে যথাযথ সচেতনতা ও সদিচ্ছা বজায় থাকা খুব জরুরী।


[ছাত্র ছাত্রীদের সুবিধার্তে বিভিন্ন সহায়ক গ্রন্থের সাহায্য নিয়ে সুন্দরভাবে এই প্রবন্ধটি তৈরি করা হয়েছে। তাই প্রবন্ধটি ভালো লাগলে অবশ্যই নিজের বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করবে।]

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
close